নভেম্বর ১১, ২০২২, ০৯:৫২ পিএম
গ্রামবাসী নিজেরা মাতাল হতে মহুয়া দিয়ে বানাচ্ছিল দেশি মদ। কিন্তু সেই মহুয়াতে মাতাল হলো দুই ডজন হাতি! তারপর গভীর ঘুমে। জাগানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে গ্রামবাসী ডেকে আনলো বনবিভাগের কর্মকর্তাদের। তারা ঢাকঢোল পিটিয়ে ভাঙালো ঘুম। মহুয়ায় মাতাল হাতিরা দুলতে দুলতে চলে গেল জঙ্গলে।
ভারতের ওড়িশা রাজ্যের কেওনঝার জেলার শিলিপদ জঙ্গলে গত বুধবার (৯ নভেম্বর) ঘটেছে এই ঘটনা। হাতির পালটিতে ছিল নয়টি পুরুষ ও ছয়টি স্ত্রী হাতি, বাকি নয়টি ছিল বাচ্চা হাতি।
নরিয়া শেঠি নামে এক গ্রামবাসী বলেন, 'আমরা সকাল ছয়টার দিকে মহুয়া তৈরির জন্য জঙ্গলে গিয়েছিলাম। পৌঁছে দেখি সব পাত্র ভাঙা এবং মহুয়াও অবশিষ্ট নেই। হাতিগুলো সেখানেই ঘুমাচ্ছিল। তারা সম্ভবত মহুয়া ভেজানো পানি পান করে মাতাল হয়ে পড়েছিল।'
তবে ভারতে বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসনে সহায়তাকারী অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডলাইফ এসওএস-এর প্রধান নির্বাহী কার্তিক সত্যনারায়ণ ঘটনাটি নিয়ে কিছুটা সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, 'সাধারণত একটি হাতি বাকিদের দেখাশোনা করে। তাই এটি একটু অস্বাভাবিক ঠেকছে।'
ভারতীয় বন্য হাতিদের কাছে মহুয়া বেশ জনপ্রিয় জানিয়ে তিনি বলেন,‘তারা এটি পছন্দ করে। এটি বিশুদ্ধ, সুস্বাদু এবং বেশ শক্তিশালী। কোনো রান্নাঘর থেকে আসা গন্ধ পেলে এটি খাওয়ার জন্য তারা দেয়ালও ভেঙে ফেলতে পারে। হাতিদের মহুয়ার প্রতি আকর্ষণ মাঝে মাঝে ভয়ানক রূপ নিতে পারে।’
চলতি বছরের এপ্রিলে দ্য টাইমস অভ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, জয়সিংহ নগর জঙ্গলে এক হাতির পাল মহুয়া সংগ্রহকারী পাঁচ ব্যক্তিকে মেরে ফেলে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গ্রামবাসীদের জঙ্গলের হাতি থেকে দূরে থাকার এবং মহুয়া ভিজিয়ে রাখা বন্ধের সতর্কবার্তা জারি করেছিলেন মধ্য প্রদেশের প্রধান বন্যপ্রাণী তত্ত্বাবধায়ক জে এস চৌহান।
ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অভ ব্রিস্টল-এর জীববিজ্ঞানী স্টিভ মরিস ন্যাশনাল জিওগ্রাফিককে বলেন, 'মদ তৈরির জন্য ভিজিয়ে রাখা ফল খেয়ে হাতিরা তাদের মস্তিষ্ক উষ্ণ করে। তবে হাতি যে মাতাল হতে পারে তার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।'