ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীন। একই সঙ্গে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি। ঢাকা-১৭ আসন থেকে এনসিপির প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল তাজনূভা জাবীনের।
রোববার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি পদত্যাগ ও নির্বাচন না করার সিদ্ধান্তের কথা জানান।
পোস্টে তাজনূভা জাবীন লেখেন, ‘আপনারা অনেকে ভাবছেন, হয়তো জামায়াতের সাথে জোটে ঐতিহাসিক কারণ বা নারী বিষয়ের কারণে আমার আপত্তি। এর চেয়েও ভয়ঙ্কর যে কারণ, সেটা হল যে প্রক্রিয়ায় এটা হয়েছে। এটাকে রাজনৈতিক কৌশল, নির্বাচনী জোট ইত্যাদি লেভেল দেয়া হচ্ছে। আমি বলব এটা পরিকল্পিত। এটাকে সাজিয়ে এ পর্যন্ত আনা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এটা আদর্শের চেয়েও অনেক বড়, সেটা হল বিশ্বাস। মাত্র কিছুদিন আগে সমারোহে সারাদেশ থেকে মনোনয়ন সংগ্রহের ডাক দিয়ে ১২৫ জনকে মনোনয়ন দিয়ে ৩০ জনের জন্য সিট সমঝোতা করে বাকিদের নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। এই সিদ্ধান্তে সিল মোহর বসানো হয়েছে।’
জোট গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও লেখেন, ‘বিষয়টা ঠেলতে ঠেলতে একদম শেষ অবধি এনেছে যাতে কেউ স্বতন্ত্র নির্বাচনও করতে না পারে। আগামীকাল মনোনয়ন জমা দেয়ার শেষ তারিখ। আমার অবশ্য এই মুহূর্তে স্বতন্ত্র নির্বাচন করার ইচ্ছা নেই।’
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের জবাবে তাজনূভা জাবীন বলেন, ‘বিভিন্ন পত্রিকায় নানান খবর প্রকাশিত হচ্ছে। আমি মনোনয়ন হারানোর ভয়ে জোটের বিরোধিতা করছি। আমি কিছুদিন আগে লিখেওছিলাম আমার আসনে নেগোনিয়েশন হলে আমি নির্বাচন করব না।’
এনসিপির নীতি ও আদর্শ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘এনসিপি শুরু থেকে যে গণপরিষদ, সেকেন্ড রিপাবলিক মধ্যপন্থার, নারী, বিভিন্ন জাতিসত্তাকে নিয়ে রাজনীতি করার কথা বলছে সেটা ধারণ করে যে কয়জন পার্টিতে ছিল তাদের মধ্যে আমি একজন। এই পার্টির একজন ফাউন্ডার মেম্বার আমি।’
পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘এই দল ছেড়ে দেওয়া ছাড়া আমার সামনে আর কোনো সম্মানজনক অপশন নেই।’ একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ‘এক শীর্ষ নেতা আরেক শীর্ষ নেতার সঙ্গে যে মাইনাসের রাজনীতি করে ওখানে সেটা ভয়ঙ্কর।’
জামায়াতের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘এটা কোনো রাজনৈতিক কৌশল না। এটাই পরিকল্পনা।’ তিনি আরও বলেন, ‘এনসিপি স্বতন্ত্র স্বকীয়তা নিয়ে দাঁড়িয়ে গেলে যে কারও সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে অসুবিধা ছিল না। সেটা ৫ বছর পরে হতো, ঠিক প্রথম নির্বাচনেই কেন?’
গণভোট প্রসঙ্গ টেনে তাজনূভা জাবীন বলেন, ‘আরেকটা বিষয় দেখলাম, বিএনপি গণভোটে না ভোটকে জেতায় আনবে তাই সেটা ঠেকানোর জন্য এই কৌশল।’
শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ ও নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি লেখেন, ‘আমি আজকে পদত্যাগ করেছি এনসিপি থেকে। অত্যন্ত ভাঙা মন নিয়ে জানাচ্ছি আমি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছি না।’ পোস্টে তিনি নির্বাচনের জন্য মানুষের দেওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার কথাও জানান।
পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, ‘আমি আগে কখনও রাজনীতি করিনি। জুলাই এ আমার রাজপথে নামা, পরিবর্তনের লক্ষ্যে নতুন কিছুর জন্য। আমি মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত সেই চেষ্টা করতে থাকব।’