জানুয়ারি ৩১, ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বিএনপির প্রতি জনসমর্থন আরও পোক্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে বেসরকারি গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনোভেশন কনসাল্টিং। তাদের পরিচালিত ‘পিপলস ইলেকশন পালস সার্ভে (পেপস)’–এর সর্বশেষ বা তৃতীয় রাউন্ডের ফলাফলে দেখা গেছে, বিএনপির সমর্থন বৃদ্ধির পাশাপাশি ৪৭ শতাংশের বেশি মানুষ দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখছেন।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিডিবিএল ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন ইনোভেশন কনসাল্টিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবাইয়াৎ সারওয়ার। বিআরএআইএন ও ভয়েস ফর রিফর্ম—এই দুই নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সহযোগিতায় জরিপটি পরিচালিত হয়।
জরিপ অনুযায়ী, উত্তরদাতাদের ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ মনে করেন আগামী দিনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন তারেক রহমান। ২২ দশমিক ৫ শতাংশের মতে, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২ দশমিক ৭ শতাংশ নাহিদ ইসলামকে ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আর ২২ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, কে প্রধানমন্ত্রী হবেন সে বিষয়ে তারা এখনো নিশ্চিত নন।
পেপসের তৃতীয় রাউন্ডের ফলাফল আরও দেখাচ্ছে, আগের রাউন্ডগুলোতে জামায়াত বা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষে থাকা কিছু ভোটারের সমর্থন বিএনপির দিকে সরে এসেছে। একই সঙ্গে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সিদ্ধান্তহীন ভোটারও এখন বিএনপির দিকে ঝুঁকছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের দেশে ফেরা এবং খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
এলাকাভিত্তিক সম্ভাব্য বিজয়ী প্রসঙ্গে জরিপে অংশ নেওয়া ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, আগামীকাল নির্বাচন হলে তাদের এলাকায় বিএনপি প্রার্থীই জয়ী হতে পারেন। ২৩ দশমিক ৮ শতাংশ এ বিষয়ে নিশ্চিত নন। আগের রাউন্ডের তুলনায় তৃতীয় রাউন্ডে বিএনপিকে সম্ভাব্য বিজয়ী হিসেবে দেখার হার বেড়েছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ, আর জামায়াতে ইসলামীর ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধি ১ দশমিক ১ শতাংশ।
আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোট কোন দিকে যাবে—সে প্রশ্নেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে জরিপে। জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে না পারায় দলটির আগের ভোটারদের মধ্যে ৩২ দশমিক ৯ শতাংশ বিএনপিকে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। ১৩ দশমিক ২ শতাংশ জামায়াতকে ভোট দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন, আর ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন।
জরিপে আরও বলা হয়, আগে যাঁরা সিদ্ধান্তহীন ছিলেন বা ভোটের পছন্দ জানাননি, তাঁদের মধ্য থেকে বিএনপি জামায়াতের তুলনায় বেশি সমর্থন পাচ্ছে। বিএনপির সম্ভাব্য ৫২ দশমিক ৮ শতাংশ ভোটের মধ্যে ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ এসেছে এই সিদ্ধান্তহীন ভোটারদের কাছ থেকে। জামায়াতের সম্ভাব্য ৩১ শতাংশ ভোটের মধ্যে ১৪ দশমিক ১ শতাংশ এসেছে একই গোষ্ঠী থেকে।
গণভোট নিয়েও জরিপে মতামত নেওয়া হয়েছে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধানের মৌলিক সংস্কারে যে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে ২২ শতাংশ জানিয়েছেন, গণভোট সম্পর্কে তারা এখনো জানেন না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জনসংখ্যাগত ও রাজনৈতিক বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে গণভোট নিয়ে সচেতনতা ও মতামতে পার্থক্য রয়েছে।
ইনোভেশন কনসাল্টিং জানায়, চলতি বছরের ১৬ থেকে ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের ৬৪ জেলার গ্রাম ও শহর এলাকা থেকে টেলিফোনে ৫ হাজার ১৪৭টি সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই তৃতীয় রাউন্ডের জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। জরিপে ভোটার উপস্থিতি, গণভোট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরপেক্ষ নির্বাচন, ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং দলীয় পছন্দ—এই ছয়টি বিষয়ের ওপর মতামত নেওয়া হয়।