এপ্রিল ৫, ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
নব্বই দশকে বেড়ে ওঠা মিলিনিয়াল প্রজন্মের শৈশব ও কৈশোরের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল হ্যারি পটার সিরিজ। তবে ২০২৬ সালের বড়দিনে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা হ্যারি পটারের নতুন সিরিজের ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই ভক্ত সমাজে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। মূলত জেনারেশন জেড বা নতুন প্রজন্মের দর্শকদের জন্য নির্মিত এই সিরিজটি মিলিনিয়ালদের মনে ধাক্কা দিয়েছে।
মিলিনিয়ালদের অসন্তোষের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সিরিজের দৃশ্যায়ন ও আমেজ। তাদের মতে, আগের সিনেমাগুলোতে যে জাদুকরী আভা ছিল, নতুন ট্রেলারে তা স্পষ্ট নয়। রেডিটসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ভক্তরা বলছেন, নতুন হ্যারি পটারের কালার গ্রেডিং বা দৃশ্যগুলো অনেক বেশি রুক্ষ ও ফ্যাকাশ, যা হ্যারি পটারের চিরাচরিত জাদুকরী জগতের সঙ্গে মানানসই নয়।
অনেকে মন্তব্য করেছেন, এটি হ্যারি পটার নয় বরং কোনো সাধারণ ঘরানার ক্রাইম বা থ্রিলার সিরিজের মতো মনে হচ্ছে। ডার্সলিদের সিঁড়ির নিচের ঘর থেকে শুরু করে হগওয়ার্টস এক্সপ্রেস—সবই যেন প্রাণহীন বলে দাবি করছেন পুরনো ভক্তরা।
নতুন সিরিজের মূল চরিত্রে অভিনয় করছেন ডমিনিক ম্যাকলাফলিন (হ্যারি), অ্যারাবেলা স্ট্যান্টন (হারমায়োনি) এবং অ্যালাস্টেয়ার স্টাউট (রন)। প্রায় ৩০ হাজার আবেদনকারীর মধ্য থেকে তাদের নির্বাচিত করা হলেও, মিলিনিয়ালরা এই কাস্টিং সহজভাবে গ্রহণ করছেন না। এছাড়াও, অ্যালান রিকম্যানের অমর করে রাখা ‘সেভেরাস স্নেইপ’ চরিত্রে এবার অভিনয় করছেন কৃষ্ণাঙ্গ অভিনেতা পাপা এসিডু।
কিছু কট্টরপন্থী ভক্ত এই কাস্টিং মেনে নিতে পারছেন না। অভিযোগ উঠেছে, তারা সরাসরি বর্ণবাদী গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকিও দিচ্ছেন। অনেকেই এই ‘আইকনিক’ চরিত্রগুলোকে নতুন করে উপস্থাপনাকে “অপ্রয়োজনীয়” এবং “সৃজনশীলতার অভাব” হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এদিকে সিরিজটিকে ঘিরে আরও বড় ধরনের বিতর্ক দেখা দিয়েছে। হ্যারি পটারের স্রষ্টা জে.কে. রাওলিং-এর ট্রান্সজেন্ডার বিরোধী মন্তব্যের কারণে নেটদুনিয়ায় সিরিজটি বয়কটের ডাক পেয়েছে। সব মিলিয়ে, এক সময়ের সবচেয়ে প্রিয় ফ্যান্টাসি সিরিজ এখন প্রজন্মগত দ্বন্দ্ব এবং বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।