আগস্ট ২৫, ২০২৩, ০৩:৪২ পিএম
সংগৃহীত ছবি
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলতে শুরু করায় সেখানকার জীববৈচিত্র বড় ধরণের হুমকির মুখে পড়েছে। এরই মধ্যে ১০ হাজার পেঙ্গুইনের মৃত্যু ঘটেছে সেখানে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন বলা হয়, স্যাটেলাইট থেকে ধারণ করা দৃশ্যে দেখা যায়, অল্পবয়সী পেঙ্গুইনের পায়ের নিচ থেকে বরফ গলতে শুরু করায় কিছু বুঝে ওঠার আগেই পানিতে পড়ে যায় তারা। বয়স কম হওয়ায় বেশির ভাগ বাচ্চা পেঙ্গুইন পানিতে ডুবেই মারা যায়। ২০২২ সালের শেষদিকে মহাদেশের পশ্চিমাঞ্চলে এই ঘটনা ঘটে।
প্রখ্যাত মানচিত্রকর ও ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের শীর্ষ বিজ্ঞানী ড. পিটার ফ্রেটওয়েল এবিষয়ে বলেন, “এটা ছিল আমাদের জন্য ভয়াবহ এক অশনিসংকেত। এখানকার ৯০ শতাংশ এমপেরর পেঙ্গুইন এখন বিলুপ্তির পথে। তিনি বলেন, `এই প্রজাতির পেঙ্গুইনগুলো বংশবৃদ্ধির জন্য সমুদ্রের ওপরের বরফ প্রয়োজন। এটি স্থির থাকে এবং বাচ্চা পেঙ্গুইনদের এখানে নিয়ে আসে। তবে এখন বরফ গলায় তাদের প্রজাতি হুমকিতে পড়েছে।
এই বিজ্ঞানী আরও বলেন, “আমরা কার্বন নি:সরণ কমানো গেলে বেশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। যদি আমরা কার্বন নি:সরণ কমাতে না পারি তাহলে সুন্দর প্রাণিগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবে।”
অ্যান্টার্কটিকায় পেঙ্গুইনদের নিয়ে কমিউনিকেশন আর্থ অ্যান্ড এনভয়ারনমেন্ট জার্নালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানী ড. ফ্রেটওয়েল ও তার সহকর্মীদের গবেষণালব্ধ প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সেন্টিনেল-২ স্যাটেলাইট ব্যবহার করে তারা পেঙ্গুইনদের পর্যবেক্ষণ করে এবং পাঁচটি কলোনি শনাক্ত করতে পেরেছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাপ্তবয়স্ক পেঙ্গুইনগুলো মার্চ মাসের দিকে পানিতে ডিম পাড়ে এমং তা দেয়। পরের মাস থেকে তারা বাচ্চাদের বড় করতে শুরু করে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, নভেম্বর থেকে সেখানে অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটছে। চারটি কলোনি বংশবৃদ্ধি করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সাল থেকে অ্যান্টার্কটিকার বরফ গলতে শুরু করে। এখন সর্বোচ্চ খারাপ অবস্থায় আছে মহাদেশটি। গত দুই গ্রিষ্মে রেকর্ড হারে গলেছে বরফ।