রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধে নিয়োজিত কমান্ডার বদল করলেন। সামরিক বাহিনীর নতুন কমান্ডার হিসেবে নিয়োগ দিলেন জেনারেল সের্গেই সুরোভিকিনকে। ৫৫ বছর বয়সী এই জেনারেল এত দিন ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে রুশ বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তাঁর দক্ষতার মূল্যায়ণ করে বড় এই দায়িত্বে নিয়ে আসলেন পুতিন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সের্গেই সুরোভিকিন ইউক্রেন যুদ্ধের আগেও রুশ বাহিনীতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য বলছে, চলতি শতকের শুরুর দিকে চেচনিয়ায় দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। নেতৃত্ব দিয়েছেন সিরিয়া যুদ্ধে রুশ বাহিনীরও। শনিবার রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাঁর নিয়োগের কথা জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউক্রেন ছাড়াও অন্যান্য যুদ্ধক্ষেত্রে সুরোভিকিনের ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে। যুদ্ধে নিষ্ঠুরতার জন্য কুখ্যাতিও রয়েছে তাঁর। তাঁকে নিয়ে গত জুনে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা প্রধান জেনারেল কিরিলো ও. বুদানভ বলেছিলেন, ‘সুরোভিকিন জানেন কীভাবে বোমারু বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে যুদ্ধ করতে হয়। আর এটাই তিনি করেন।’
ওই সময় যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, সুরোভিকিন ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময়ে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতা ও দুর্নীতির অনেক অভিযোগ উঠেছে।
ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর নতুন এই নেতাকে জেলও খাটতে হয়েছিল। ১৯৯১ সালে মস্কোয় একটি ব্যর্থ অভ্যুত্থানের সময় তাঁর অধীনে থাকা সেনারা তিনজন বিক্ষোভকারীকে হত্যা করেন। এরপর অন্তত ছয় মাস তাঁকে কারাগারে কাটাতে হয়। পরে অবশ্য কোনো শুনানি ছাড়াই মুক্তি পান তিনি।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান জেমসটাউন ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালে অবৈধ অস্ত্র বাণিজ্যের দায়ে সুরোভিকিনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়। তবে পরে বরখাস্তের ওই আদেশ ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার তালিকায়ও রয়েছেন এই রুশ সামরিক কর্মকর্তা। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযান শুরুর আগের দিন এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।