বিহারে যেকারণে ক্ষমতার পালাবদল, বিকেলেই মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন নীতীশ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ১০, ২০২২, ১০:১৬ এএম

বিহারে যেকারণে ক্ষমতার পালাবদল, বিকেলেই মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন নীতীশ

ভারতের বিহার রাজ্যের রাজনীতিতে আবারও পালাবদল হতে চলেছে। এবারও সেই নীতীশ কুমারের হাত ধরে পালাবদলের চমক দেখছে পুরো ভারত। দেশের অন্যান্য রাজ্যে  যেখানে নেতা-নেত্রীরা ‘মোদি ম্যাজিক’-এ  প্রবলভাবে বিজেপিমুখী, ঠিক তখন পুরোদস্তুর ঝুঁকি নিয়ে বিজেপির হাত ছাড়লেন নীতীশ কুমার।

বিজেপির সঙ্গ ছেড়ে লালুপ্রসাদ যাদবের নেতৃত্বাধীন রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) ও কংগ্রেসসহ সাত দলের সমর্থন নিয়ে সরকার গড়ার দাবি রাজ্যপালের কাছে জানিয়ে এসেছেন তিনি। নীতীশ কুমার এবং তেজস্বী যাদবের দাবি মেনে তাঁদের বিহারে নয়া সরকার গড়ার সুযোগও দিয়েছেন রাজ্যপাল ফাগু চৌহান। বুধবার(১০ আগস্ট) স্থানীয় সময় বেলা ২ টায় রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রী এবং উপমুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবেন। মহাগঠবন্ধনের বৃহত্তম দল আরজেডির তরফে মঙ্গলবার বিকেলে টুইট করে এ কথা জানানো হয়েছে।

এমনিতে বিহারের রাজনীতিতে নীতীশ ‘পল্টুরাম’ হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু এবার যেভাবে সম্পূর্ণ স্রোতের বিপরীতে হেঁটে তিনি বিজেপির হাত ছেড়ে আরজেডির হাত ধরলেন, সেটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এর নেপথ্যে কারণ কী কী? শুরু হয়ে গিয়েছে কাঁটাছেঁড়া।

নীতীশের ভারতীয় জনতা দল (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) ছাড়ার অন্যতম কারণ রাজনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা। এমনিতেই এনডিএ জোটে তিনি ছিলেন ছোট শরিক। তার উপর আবার কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরসিপি সিংয়ের মাধ্যমে নীতীশ কুমারের দল জনতা দল ইউনাইটেড-এ(জেডিইউতে) ভাঙন ধরানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। শনিবার সরকারিভাবে জেডিইউ ছেড়েছেন আরসিপি সিং। তাতেই দলে ভাঙনের আশঙ্কা বেড়ে যায় নীতীশের। সে কারণেই তিনি তড়িঘড়ি বিজেপির সঙ্গ ছাড়ার সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেলেন।

আনন্দবাজার, সংবাদ প্রতিদিনসহ একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, নীতীশের এনডিএ ছাড়ার অন্যতম কারণ বিজেপি নেতা ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর অতিসক্রিয়তা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পরোক্ষভাবে বিহার বিজেপির যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছেন। এমনকি নীতীশের মন্ত্রিসভায় বিজেপি থেকে কারা কারা মন্ত্রী হবেন, সেটাও ঠিক করে দিচ্ছিলেন শাহ। যা একেবারেই পছন্দ হচ্ছিলো না নীতীশের। তার ভয় ছিল, বিহারে জমি শক্ত করতে যেকোনো দিন তার সরকার ফেলে দিতে পারে বিজেপি।

বিজেপির সাথে জেডিইউ-এর জোট শুরু থেকেই তেমন মসৃণ ছিল না। ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় মাত্র জেডিইউয়ের মাত্র একজনকে জায়গা দেন মোদি । যা নিয়ে শুরু থেকেই অসন্তোষ ছিল। তাছাড়া বিহার বিধানসভায় বিজেপি যাকে স্পিকার করেছে সেই বিজয়কুমার সিনহা লাগাতার নীতীশ সরকারকেই আক্রমণ শানিয়ে গিয়েছেন। যা নিয়ে মারাত্মক অসন্তোষ ছিল নীতীশের মনে। এমনকী স্পিকারকে সরানোরও প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিজেপি তা মানেনি।

সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, বিজেপির নীতি এবং নীতীশের রাজনীতি। দু’টি একে অপরের বিরুদ্ধে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে নীতি আয়োগের রিপোর্টে বিহারকে দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া রাজ্যগুলোর মধ্যে দেখানো হয়েছে। যা একেবারেই নাপছন্দ নীতীশের। এমনকী বিজেপির একের পর এক প্রকল্প যা কিনা সংখ্যালঘুদের ভাবাবেগকে আঘাত করে, সেটাও মুখ বুজে হজম করতে হয়েছে নীতীশকে। কিন্তু লাগাতার বিজেপিকে এভাবে সমর্থন করায় সংখ্যালঘুদের মধ্যে নীতীশের গ্রহণযোগ্যতা কমছিল। তাছাড়া, সদ্যই কেন্দ্রের আনা অগ্নিপথ প্রকল্পেরও তীব্র বিরোধী নীতীশ। জোটে থাকার দরুন তার দায়ও এসে পড়ছিল তারই উপর। যা মানতে পারেননি বিহারের মুখ্যমন্ত্রী।

নীতীশের বিজেপির হাত ছাড়ার আরো একটি কারণ হতে পারে জাতীয় রাজনীতিতে পা রাখার হাতছানি। এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে বিরোধী শিবির মোদির সমকক্ষ স্বচ্ছ ভাবমূর্তির খোঁজ করছে। সেক্ষেত্রে ২০২৪ লোকসভার কথা দিকে নজর রেখে বিরোধী জোটের নেতা হিসেবেও নীতীশ নিজেকে তুলে ধরার চেষ্টা করতেই পারেন। কারণ নতুন জোটে পা রেখেই বিহারের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করে দিয়েছেন, শুধু বিহার থেকে নয়, অন্যান্য রাজ্যেও কিভাবে বিজেপিকে হারানো যায়, সেদিকে তিনি নজর দেবেন।

Link copied!