জুলাই ২১, ২০২২, ১১:১০ এএম
আর কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ভারত পেতে চলেছে নতুন রাষ্ট্রপতি। দেশের পরবর্তী প্রথম নাগরিক বাছাই করতে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় শুরু হয় ভোট গণনা।
ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রাটিক অ্যালায়েন্সের (এনডিএ) প্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মু কিংবা বিরোধী জোটের প্রার্থী যশবন্ত সিনহার মধ্যেই কেউ হতে চলেছেন বিদায়ী প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দের উত্তরসূরি।
যশবন্ত সিং
পাটনার এক কায়স্থ পরিবারে জন্ম নেওয়া বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের অধিকারী যশবন্ত সিং ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত তখনকার প্রধানমন্ত্রী চন্দ্রশেখরের অধীনে এবং পরবর্তীতে ১৯৯৮ থেকে ২০০২ পর্যন্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ীর অধীনে অধীনে অর্থমন্ত্রী ছিলেন। ২০০২ থেকে মে ২০০৪ পর্যন্ত সময়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দাুয়ত্ব পালন করেছেন। ২০১৮ সালের ১৮ এপ্রিল বিজেপি ত্যাগ করার আগে তিনি দলের একজন সিনিয়র নেতা ছিলেন।
গত ২০২১ সালের মার্চ মাসে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। তবে তিনি চলতি বছরের জুনে দলত্যাগ করেন কারণ রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসাবে তিনি বিরোধী জোটের প্রার্থী হয়েছেন।
দ্রৌপদী মুর্মু
অপরদিকে, দ্রৌপদী মুর্মু ১৯৫৮ সালের ২০ জুন ওড়িশার একটি সাঁওতাল উপজাতি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা এবং দাদা উভয়েই পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থার অধীনে গ্রামের প্রধান ছিলেন।
মুর্মু ১৯৯৭ সালে বিজেপিতে যোগদান করেন। তিনি দলের তফসিলি উপজাতি মোর্চার জাতীয় সহ-সভাপতি হিসেবেও কাজ করেছেন।
ওড়িশায় বিজেপি এবং বিজু জনতা দলের জোট সরকারের সময় তিনি ২০০০ থেকে ২০০২ পর্যন্ত বাণিজ্য ও পরিবহন এবং ২০০২-২০০৪ পর্যন্ত মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ উন্নয়নের স্বাধীন দায়িত্বের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তিনি ওড়িশার প্রাক্তন মন্ত্রী এবং ২০০৪ এবং ২০০৪ সালে রায়রঙ্গপুর বিধানসভা কেন্দ্রের একজন।
ঝাড়খণ্ডের প্রথম মহিলা রাজ্যপাল এই বিজেপি নেত্রী রাজনীতিতে আসার আগে একজন স্কুল শিক্ষক ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি একটি সহকারী অধ্যাপক হন। তিনি ওড়িশা থেকে প্রথম মহিলা আদিবাসী নেত্রী যিনি ভারতীয় রাজ্যের গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত হন।
গত সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ। ১৬তম রাষ্ট্রপতি ভোটে বিজয়ী প্রার্থী হবেন দেশের পঞ্চদশ রাষ্ট্রপতি। কারণ, ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ পর পর দু’বার (১৯৫২ এবং ১৯৫৭) নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন।
পাল্লা ভারী দ্রৌপদীর
সোমবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন চলাকালীনই বিরোধী জোটের প্রার্থী যশবন্ত সিনহা ‘টাকা দিয়ে দল ভাঙানোর’র অভিযোগ তুলেছেন। তা দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, লড়াই যে কঠিন সে কথা সম্ভবত ইতিমধ্যেই বুঝে গিয়েছেন অটলবিহারী বাজপেয়ী মন্ত্রিসভার সদস্য প্রাক্তন আমলা। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের প্রার্থী দ্রৌপদী মুর্মু কিছুটা এগিয়ে বলেই মনে করছেন তাঁরা। সংসদ এবং বিভিন্ন রাজ্যে বিজেপি এবং তার সহযোগীদের ভোটের অঙ্কও দ্রৌপদীরই পক্ষে।