যার জন্য তাইওয়ানের ওপর এখনও নির্ভরশীল চীন

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ৪, ২০২২, ০৭:০৩ পিএম

যার জন্য তাইওয়ানের ওপর এখনও নির্ভরশীল চীন

তাইওয়ান সফর করে মাকিনযুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি চলে যাওয়ার পরই ওই দ্বীপটিকে শায়েস্তা করতে উঠে পড়ে লেগেছে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র চীন। এর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তাইওয়ান থেকে আমদানিতে নানা ধরণের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নিজেদের মোট রপ্তানির ৩০ ভাগই চীনে পাঠায় তাইওয়ান। তাই চীনের যে কোনো নিষেধাজ্ঞাই বড় প্রভাব ফেলে দেশটির উপরে। চীনও দফায় দফায় তাইওয়ানের একের পর এক পণ্যের উপরে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে চলেছে। তবে তাইওয়ানের সবথেকে মূল্যবান রপ্তানি সেমিকন্ডাক্টরের উপরে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেনি চীন। আর এক্ষেত্রে তাইওয়ানের সাথে টক্কর দিতে পারছে না চীন অর্থ্যাৎ তাইওয়ানের কাছে ধরা চীন।

বিশ্বে সেমিকন্ডাক্টরের বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য চলে তাইওয়ানের। অঅর এই সেমিকন্ডাক্টরের কারণেই বিশ্বের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তাইওয়ান।এদিক দিয়ে চীন নিজেও তাইওয়ানের উপরে নির্ভরশীল। তাইওয়ানের উপর থেকে এই নির্ভরশীলতা দূর করতে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে নিকট ভবিষ্যতে তাইপের ওপর এই নির্ভরশীলতা দূর করা যে সম্ভব নয় তা বেইজিংও ভালভাবে জানে।

 সেমি কন্ডাক্টরের মোট বাজারের ৬৪ ভাগই নিয়ন্ত্রণ করে চীনের হুমকি-ধামকিতে থাকা ক্ষুদ্র দ্বীপ তাইওয়ান। স্মার্টফোন থেকে শুরু করে যুদ্ধবিমান, সব ক্ষেত্রে  প্রয়োজন হয় এই সেমিকন্ডাক্টর। এরপরেই রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। তারা তৈরি করতে পারে মাত্র এক পঞ্চমাংশ। তাও আবার সর্বাধুনিক সেমিকন্ডাক্টরের বাজারে তাইওয়ান একাই সরবরাহ করে ৯২ শতাংশ। অর্থাৎ তাইওয়ানকে ছাড়া চীনসহ গোটা বিশ্বই অচল।

বিশ্বের মাত্র ১৩টি দেশ স্বীকৃতি দিলেও তাইওয়ানের ওপর নির্ভরশীর পুরো বিশ্ব। নিজেদের অর্থনীতিই পাশাপাশি তাইওয়ানের নিরাপত্তায়ও বড় ভূমিকা রাখে এই সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি। দ্বীপটির মোট রপ্তানির ৪০ ভাগই আসে সেমিকন্ডাক্টর থেকে। এই সেমিকন্ডাক্টরের কারণেই কৌশলগত দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলোর কাছে  তাইওয়ান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেমি কন্ডাক্টরের বদৌলতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের নেতৃত্ব দেবে তাইওয়ান। আর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তাহলে তাইয়ান ক্ষতিগ্রস্ত হলেও চীনের অর্থনীতিতে ব্যাপক ধস নামার  সম্ভাবনা রয়েছে। আর একারণেই বেশ কয়েকটির পণ্যের ওপর রফতানি নিষেধাজ্ঞা দিলেও সেমিকন্ডাক্টর ওই আওতার বাইরে রেখেছে।

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে চীন। তারপরেও বৈশ্বিক বাজারের মাত্র ১০ ভাগের নিয়ন্ত্রণ রাখতে পেরেছে বেইজিং।অন্যদিকে, তাইওয়ানের সেমিকন্ডাক্টর অত্যাধুনিক ও গুণগত মান চীনের থেকে অনেক ভাল। একারণে বিশ্ববাজারে সেমিকন্ডাক্টরের রাজত্বে তাইওয়ানের এই পণ্য রাজত্ব করে আসছে।

সম্প্রতি চীন ৭ ন্যানোমিটার চিপ তৈরি করলেও এটি টিএসএমসি অথবা স্যামসাং এর থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। তাই তাইওয়ান থেকে নানা পণ্যে  আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও, সেমিকন্ডাক্টরকে এড়িয়ে গিয়েছে শি জিনপিং সরকার।

তবে নিজেদের এই নির্ভরশীলতা কাটাতে উঠে পড়ে লেগেছে চীন। এই নির্ভরশীলতাকে বড় বিপদ বলে আখ্যায়িত করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।যত দ্রুত সম্ভব চীনের এই নির্ভরশীলতা দূর করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এছাড়া, সম্প্রতি চীন সরকার ‘মেড ইন চায়না’ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের অধীনে হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিতে ৫ বছরে ১.৪ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হবে। এছাড়া প্রতি বছরই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ছে দেশটিতে। তারপরও এখনও তাইওয়ানের ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমাতে পারেনি দেশটি। যতদিন না এই নির্ভরশীলতা দূর করতে পারছে, ততদিন তাইওয়ানের কাছে ধরা দেশটির প্রতিপক্ষ চীন।

সূত্র: মানবজমিন

Link copied!