মার্চ ২৮, ২০২৬, ০১:৫৪ এএম
ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কাল নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তার দাবি, ক্ষমতায় থাকার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর একটি প্রস্তাব তারা পেয়েছিলেন, যা এসেছিল ‘ডিপ স্টেট’ থেকে।
শুক্রবার এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, এই ‘ডিপ স্টেট’-এর সঙ্গে বৈদেশিকসহ একাধিক শক্তিশালী পক্ষ জড়িত ছিল। তবে নির্দিষ্ট করে কারও নাম উল্লেখ করতে চাননি তিনি।
এর আগে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ঢাকার বাংলামোটরে জাতীয় নাগরিক পার্টির কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনায় তিনি এ প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। সেখানে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুর দিকেই এমন একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়, যাতে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত মেনে নিলে সরকারকে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার সুযোগ করে দেওয়া হতো।
আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘তাদের (ডিপ স্টেট) সার্টেইন কিছু শর্ত ছিল যে তাদের কিছু কিছু জায়গায় ফ্যাসিলিটেটেড করা। এবং তারা পুরো রোডম্যাপও করে নিয়ে আসছিল যে বিএনপির নেতাদের তো সাজা আছে; তো সাজা থাকলে সাধারণভাবে নির্বাচন দিলেও তারা নির্বাচন করতে পারবে না। তো তাদের সাজাগুলো আদালতের মাধ্যমে দীর্ঘায়িত করে আপনারা তো জানেন, সেটা কীভাবে করা যায়। আদালতের ডেট ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে...তারেক রহমানের নিজের নামেও সাজা ছিল। সে যদি সাজাপ্রাপ্ত অবস্থায় থাকত, নির্বাচন হলেও তিনি বাংলাদেশের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারতেন না।’
তিনি আরও বলেন, `অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম তিন-চার-পাঁচ মাসে বিভিন্ন আলোচনায় ডিপ স্টেটের দিক থেকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যে তাদের কিছু স্বার্থ রক্ষা করলে তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে দীর্ঘদিন রাখতে আগ্রহী।
দেন-দরবারের অংশ হিসেবে আমাদের অ্যাপ্রোচ করা হয়েছিল, হয়তো অন্য উপদেষ্টাদের সঙ্গেও তারা কথা বলেছিল।’
আসিফ মাহমুদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবে রাজনৈতিক বাস্তবতা প্রভাবিত করার কিছু কৌশলও ছিল—বিশেষ করে কীভাবে ক্ষমতায় থাকা যায়, সেই কৌশল সাজিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে এসব প্রস্তাবে তারা সাড়া দেননি বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার শুরু থেকেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল। সেই কারণেই সরকার শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা দীর্ঘায়িত না করে নির্বাচন আয়োজন করে এবং দায়িত্ব ছেড়ে দেয়।
যদিও ‘ডিপ স্টেট’ কারা—সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি আসিফ মাহমুদ। তার এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের অন্য কোনো সদস্য এ ধরনের প্রস্তাবের বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি।