নভেম্বর ৩, ২০২৩, ০৫:০৯ পিএম
ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সঙ্গে সম্পর্কিত বেশকিছু ম্যাসেজিং চ্যানেলের উপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে ম্যাসেজিং প্লাটফর্ম টেলিগ্রাম।
গত সপ্তাহ থেকেই গুগল প্লে কিংবা অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে ডাউনলোড করা টেলিগ্রামের বিভিন্ন সংস্করণ ব্যাবহার করে হামাসের সামরিক শাখা ‘আল-কাসাম ব্রিগেড’ ও নিউজ অ্যাকাউন্ট ‘গাজা নাও’ এ প্রবেশ করা যাচ্ছে না, এমন তথ্যই উঠে এসেছে আল–জাজিরার প্রতিবেদনে।
৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে এসব চ্যানেলগুলোতে যথাক্রমে প্রায় পাচঁ থেকে এবং দশ লক্ষাধিক ফলোয়ার বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে ‘গাজা নাউ’ চ্যানেলের গ্রাহক প্রায় সাড়ে তিন লাখ থেকে প্রায় ১৯ লাখে পৌঁছেছে।
গুগল প্লে ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোরের টেলিগ্রামের সংস্করণগুলোতে বিধি-নিষেধের পর প্রায় ১০ থেকে ৮০ হাজারের মতো ফলোয়ার হারিয়েছে এসব চ্যানেল।

যুক্তরাষ্ট্রের ‘জ্যাকোর লিগ্যাল ইনস্টিটিউট’ চলমান ‘ইসরায়েল-বিরোধী আন্দোলন’ এর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালায়। গত সপ্তাহে অ্যাপলকে এই প্রতিষ্ঠান একটি চিঠি লিখে বলে, হামাসের সঙ্গে সম্পর্কিত সাতটি অ্যাকাউন্ট সচল আছে।
গুগলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘যেসব কনটেন্ট সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রচার, সহিংসতা উস্কানী দান করে কিংবা সন্ত্রাসীদের হামলা উৎযাপন করে সেগুলোকে অসীম সময়ের জন্য ব্যান অথবা বন্ধ করেবে প্রতিষ্ঠানটি।’ তবে টেলিগ্রাম কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করেনি।
আটলান্টিক কাউন্সিলের ডিজিটাল ফরেনসিক রিসার্চ ল্যাবের সহযোগী সম্পাদক লায়লা মাশকুর আল জাজিরাকে বলেন, ‘শিথিল ও অপর্যাপ্ত নীতির অভাব সেদিনের পর থেকে হামাসের খবর প্রচারে সাহায্য করেছে টেলিগ্রাম। জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো হত্যাকাণ্ডে অংশ নিচ্ছে তার গ্রাফিক ফুটেজ টেলিগ্রামে আপলোড করা হয়। এরপরই সেইসব কনটেন্ট ইন্টারনেটের অন্যান্য জায়গায়ও ছড়িয়ে যায়।’
নিজেদের বিভিন্ন বার্তা প্রচারের জন্য টেলিগ্রামকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে আসছে হামাস। ইসরায়েলিদের ওপর হামলার ভিডিও ও ছবি সম্প্রচার করতে অ্যাপটি ব্যবহার করা হয়েছে জানা যায়। এমনকি আইএসআইএল (আইএস-আইএস) এবং আল-কায়েদার মত অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীও তাদের মতাদর্শ প্রচার করতে এবং হামলার দায় স্বীকার করতে টেলিগ্রামকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে।
সূত্র: আল-জাজিরা