রেসলিংয়ে নামছে সৌদি আরবের তরুণীরা। সমালোচনা উপেক্ষা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে নারী স্বাধীনতায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলেই মানছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই আরব দেশগুলোতে নারী স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সেই জায়গায় গত কয়েক বছর ধরে উল্টো রাস্তায় হাঁটতে শুরু করেছে সৌদির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। প্রথম মেয়েদের নিয়ন্ত্রিত ভোটাধিকার দিয়েছিলেন তিনি। এছাড়াও দেয়া হয়েছে গাড়ি চালানোর অনুমতিও। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ঘোষণা দেয়া হয় ইন্ডিয়ান আইডলের ধাঁচে সৌদি আইডল আয়োজনের। সেখানেও মহিলাদের অবাধ এন্ট্রি দেয়ার অনুমতি দিয়েছে সৌদি প্রশাসন।
যদিও আরব দেশের এমন পদক্ষেপকে কিন্তু মোটেই ভালোভাবে নিচ্ছেন না রক্ষণশীলরা। সৌদি সরকারের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ উগড়ে দিতে দেখা গিয়েছে তাদের। কেউ লিখেছেন, রিয়াদ তো নরক হয়ে যাবে। কেউ বলছেন, নতুন সৌদির বাতাসে শুধুই বিষাক্ত নিঃশ্বাস। তবে নেটিজেনদের একটা বড় অংশই এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
সৌদি প্রশাসন অবশ্য জানিয়েছে, নারী স্বাধীনতার পাশাপাশি পর্যটকদের কথা ভেবেও এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে খনিজ তেলের উৎপাদন কিছুটা কমিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশ। তার বদলে অর্থনীতি সচল রাখতে জোর দিয়েছে পর্যটনের ওপরে।
সৌদি প্রশাসনের কর্তা-ব্যক্তিদের দাবি, আরব সংস্কৃতির টানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু মানুষ এদেশে আসেন। আরব তরুণীদের নৃত্যশৈলী উপভোগ করেন বিদেশীরা। সেই জায়গায় মেয়েরা রিংয়ে নামলে নতুন করে সৌদির প্রতি আকর্ষণ বাড়বে পর্যটকদের।
সূত্র: টিওআই, আরব নিউজ।