গত এক যুগের বেশি সময় দেশের মেয়ে ফুটবলারদের সাফল্যে মাতোয়ারা ক্রীড়াঙ্গণ। একের পর এক শিরোপা জিতে দেশের দেশকে তারা তুলে ধরেছেন বিশ^ আসরে। এর পেছনের কারিগর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মহিলা উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরন। তার অসীম দক্ষতায় দক্ষিণ এশিয়ায় মেয়েদের ‘বিশ্বকাপ খ্যাত’ সাফ ওমেন্স চ্যাম্পিয়নশিপে গত বছর সেপ্টেম্বরে প্রথমবার অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন সাবিনা খাতুনরা। সেই দলটির অভিভাবক হিসেবে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পাওয়ার দাবীদার মাহফুজা আক্তার কিরন। যা এখন সময়ের দাবীও বটে।
গত প্রায় এক যুগ ধরেই দেশের মেয়েদের ফুটবলকে একটু একটু করে এগিয়ে নিয়ে গেছেন মাহফুজা আক্তার কিরন। এনে দিয়েছেন দক্ষিণ এশিয়ার সর্বোচ্চ সাফল্য। দেশের নারী ফুটবলের উন্নতির সঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) মহিলা উইংয়ের চেয়ারম্যান কিরনের মুকুটেও যোগ হয়েছে নিত্য নতুন সাফল্যের পালক। ২০১৭ সালের মে মাসে অস্ট্রেলিয়ান ময়া ডডকে হারিয়ে প্রথমবার এবং ২০১৯ সালে ফিফা কাউন্সিলর সদস্যদের নির্বাচনে উত্তর কোরিয়ার উন গিউনকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ফিফার কাউন্সিল সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ফিফা প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যানও হয়েছেন। ২০১২ সালে জাপানে অনুষ্ঠিত মেয়েদের ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ এবং ২০১৬ সালে পাপুয়া নিউগিনিতে অনুষ্ঠিত ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ^কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের অর্গনাইজিং কমিটিতেও ছিলেন কিরন। ২০১৯ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত বর্তমানে তিনি এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং এএফসি নারী কমিটির চেয়ারপার্সন। এর আগেও অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার (ওসিএ) অ্যাথলেট মেম্বার ছিলেন কিরন।
মেয়েদের ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে ২০১১ সালে শেখ জামাল পুরস্কার জেতেন মাহফুজা আক্তার। ২০১৭ সালে নারী উদ্যোক্তা অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউইএবি) পুরস্কার ও বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএসজেএ) এবং ২০১৮ সালে অনন্যা সেরা দশের একজন হয়ে পুরস্কার জেতেন তিনি। মাহফুজা আক্তারের জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কার পাওয়া উচিত বলেই মনে করেন বাফুফের সদস্য ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী। তার কথায়, ‘আমি বিচারক হলে অনেক আগেই মাহফুজা আক্তার কিরনকে জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারে ভূষিত করতাম।’