মাঠে ৯০ হাজারেরও বেশি দর্শক। সেই দর্শকদের সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ অভিযানের শুরুটা দুর্দান্ত হল ভারতের। মেলবোর্নের ২২ গজি ব্যাটিং বিপর্যয় সামলে ‘বিরাট’ জয় পেলেন রোহিত শর্মারা। নাটকীয় ম্যাচে পাকিস্তানের ৮ উইকেটে ১৫৯ রানের জবাবে ভারত করল ওভারে ৬ উইকেটে ১৬০ রান। জয়ের নায়ক যথারীতি অপরাজিত ৫৩ বলে ৮৩ রান করা বিরাট কোহলিই। বিরাটের এই অনবদ্য সূচনা যে এই টুর্নামেন্ট জুড়েই থাকবে, ইঙ্গিত পাওয়া গেল এই ম্যাচেই।
অস্ট্রেলিয়ার এই আবহাওয়ার সাথে মানিয়ে নিতে ৬ অক্টোবর সে দেশে চলে গিয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। পার্থ, ব্রিসবেন, মেলবোর্নে তিন দফায় চলেছে তাদের প্রস্তুতি। তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছে ভারতীয় দল। তবু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহদের সামনে বিধ্বস্ত ছিল ভারতীয়রা। মেলবোর্নের মতো বড় মাঠে ১৬০ রানের লক্ষ্য তাই সহজ ছিল না।
গ্যালারি ভর্তি দর্শকের সামনে হয়তো সেই চাপই নিতে পারছিলেন না রোহিতরা। শুরুতেই আউট হন সহ-অধিনায়ক লোকেশ রাহুল (৪)। তাঁর পরেই সাজঘরে ফিরলেন রোহিতও (৪)। আগ্রাসী মেজাজে শুরু করেও বড় ইনিংস খেলতে পারলেন না সূর্যকুমার যাদবও। ১০ বলে ১৫ রান করে আউট হলেন সূর্যকুমার। দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং অর্ডারে বদল করে ভারতীয় দল। পাঁচ নম্বরে ব্যাট করতে পাঠানো হয় অক্ষর পটেলকে। বাঁহাতি অলরাউন্ডারকে নামিয়ে দ্রুত কিছু রান তুলে নিতে চেয়েছিলেন রোহিতরা। সেই পরিকল্পনাও কাজে এল না। বিরাট কোহলির ভুলে রানআউট হয়ে গেলেন অক্ষর (২)।

ভারতীয় ইনিংসের প্রথম ছয় মারলেন হার্দিক পান্ডে ১২ তম ওভারে। কোহলি মূলত উইকেটের এক দিক আগলে রাখলেন। রবিবার শুরুর দিকে ব্যাটে বলে ঠিক মতো হচ্ছিল না প্রাক্তন অধিনায়কের। পরের দিকে অবশ্য হাত খুলে পাক বোলারদের শাসন করতে শুরু করেন কোহলি। হার্দিকের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটের জুটিতে পাল্টা লড়াই পৌঁছে দিলেন পাক শিবিরে। তাঁদের জুটি উঠল ১১৩ রান। সেই জুটিই গড়ে দিল অনবদ্য জয়ের ভিত।
টস জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন রোহিত। শুরুতেই বাবর আজম (শূন্য) এবং মহম্মদ রিজওয়ানের (৪) উইকেট তুলে নিয়ে পাকিস্তানকে ধাক্কা দেন আরশদীপ সিংহ। জোড়া ধাক্কা খেয়ে চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। তিন নম্বরে নামা শান মাসুদ এবং চার নম্বরে নামা ইফতিকার আহমেদ পাক ইনিংসের হাল ধরেন।
যে মিডল অর্ডার নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল, সেই মিডল অর্ডারই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ভরসা দিল বাবরের দলকে। দু’জনেই অর্ধশতরান করলেন। ইফতিকার ধীরে শুরু করেও পরে আগ্রাসী ব্যাটিং করলেন। তাঁর ৩৪ বলে ৫১ রানের ইনিংসে রয়েছে দু’টি চার এবং চারটি ছক্কা। উইকেটের এক দিক শেষ পর্যন্ত আগলে রাখলেন মাসুদ। শেষ পর্যন্ত পাঁচটি চারের সাহায্যে ৪২ বলে ৫২ রান করে অপরাজিত থাকলেন তিনি। পাকিস্তানের অন্য ব্যাটারারা সাফল্য না পেলেও মাসুদ এবং ইফতিকারের ইনিংসে ভর করেই মূলত পাকিস্তান ১৬০ রানের লক্ষ্য রাখে ভারতের সামনে। শেষ দিকে শাহিন খেললেন ৮ বলে ১৬ রানের ছোট ঝোড়ো ইনিংস। তিনিই পাক ইনিংসের তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী। আর কেউ দু’অঙ্কের রান করতে পারলেন না। শাহিনের পর সর্বোচ্চ মহম্মদ নওয়াজের ৯।
আরশদীপ ছাড়াও ভারতের হয়ে ভাল বল করলেন হার্দিক, ভুবনেশ্বর কুমার, মহম্মদ শামিরা। আরশদীপ ৩২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিলেন। যদিও সেই ১৯তম ওভারে দিলেন ১৪ রান। ভারতের সফলতম বোলার অবশ্য হার্দিক। ৩০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিলেন তিনি। ভুবনেশ্বর ২২ রানে ১ উইকেট এবং শামি ২৫ রানে ১ উইকেট নিলেন। যদিও হতাশ করলেন অক্ষর পটেল। এক ওভার বল করে ২১ রান দিলেন বাঁহাতি স্পিনার। ইফতিখারের আগ্রাসনের সামনে লাইন-লেংথ হারিয়ে ফেললেন অক্ষর। তাঁকে পরে আর আক্রমণে আনার সাহসই পেলেন না অধিনায়ক রোহিত। অন্য স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন ৩ ওভার বল করে দিলেন ২৩ রান।
পাকিস্তানের ইনিংসে অশ্বিনের বলে মাসুদের একটি শট স্পাই ক্যামে লাগায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন রোহিত, হার্দিকরা। বলটি স্পাই ক্যামে না লাগলে ১৫তম ওভারেই আউট হয়ে যেতে পারতেন অপরাজিত অর্ধশতরান করা মাসুদ।
ভারতের ব্যাটিং ইনিংসে শেষ দিকে এসে জয়ের তরী বহুদূরে চলে যায়। বিশেষ করে শেষ পাঁচ ওভারে এসে জয়ের পাল্লা পাকিস্তানের দিকেই ঝুঁকেছিল। কিন্তু শেষ ভাল যার, সব ভাল তাঁর। বিরাট কোহলীর ব্যাটে ভর করে জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ভারত।