নভেম্বর ১, ২০২২, ১২:৪২ পিএম
যৌতুক চেয়ে নির্যাতনের অভিযোগে স্ত্রীর করা মামলায় স্থায়ী জামিন পেলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার আল আমিন হোসেন। মঙ্গলবার ঢাকার ৮ নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম মাফরোজা পারভীনের আদালতে তিনি আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীর মাধ্যমে স্থায়ী জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তার জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী আব্দুর রহমান মাসুম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টে এ মামলার জন্যে জামিন আবেদন করেন আল-আমিন। পরের দিন হাইকোর্টের বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তার আট সপ্তাহের আগাম জামিন মঞ্জুর করেন।
আট সপ্তাহ পরে তাকে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে আত্মসর্মপণ করার জন্য বলেন আদালত। আজ হাইকোর্টের দেয়া জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৮ নং আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে বিচারক তা মঞ্জুর করেন।
এর আগে, গত ১ সেপ্টেম্বর ক্রিকেটার আল আমিনের স্ত্রী ইসরাত জাহানের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ২ সেপ্টেম্বর তা মামলা আকারে নথিভুক্ত করে মিরপুর মডেল থানা। ১৩ অক্টোবর মামলার প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নিভানা খায়ের জেসি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২ নভেম্বর দিন ধার্য করেন। তার আগে আজ স্থায়ী জামিন পেলেন আল আমিন।
উল্লেখ্য, গত ৩ সেপ্টেম্বর তার মায়ের মাধ্যমে স্ত্রী ইসরাতের সাথে আর সংসার না করার ও সন্তানদের ভরণপোষণ না দেয়ার কথা জানান আল-আমিন। প্রয়োজনে স্ত্রীকে বাসা থেকে বের করে দেয়ার ও তালাকের কথাও জানান তিনি। তার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি তিনি একজন নারীর সাথে ওঠানো ছবি স্ত্রী ইসরাতের কাছে পাঠিয়েছেন।
এ অবস্থায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর আল-আমিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ইসরাত জাহান। এই মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে ২৭ সেপ্টেম্বর জামিন পান আল-আমিন। ৬ অক্টোবর পর্যন্ত তার জামিন মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিয়ে হয় আল-আমিন ও ইসরাতের। তাদের দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে আল-আমিন স্ত্রী ও সন্তানদের ভরণ-পোষণ দেন না এবং খোঁজখবর না নিয়ে এড়িয়ে চলছেন। গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে আল-আমিন বাসায় এসে স্ত্রীর কাছে যৌতুকের জন্য ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। ইসরাত জাহান টাকা দিতে অস্বীকার করলে আল-আমিন তাকে এলোপাতাড়ি কিল ঘুষি লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে তার সাথে সংসার করবে না বলে জানান। ইসরাত জাহান ৯৯৯-এ টেলিফোন করে সাহায্য চাইলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, আল-আমিন স্ত্রী-সন্তানদের বাসা থেকে বের করে অন্যত্র বিয়ে করবেন বলে জানান। দুই বছর ধরে তিনি স্ত্রীর খোঁজখবর নেন না এবং বাসায় নিয়মিত থাকেন না। যার কারণে ইসরাত তার দুই সন্তানসহ বসতবাড়িতে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার অধিকারসহ মাসিক ভরণ-পোষণের দাবি করে মামলাটি করেন। জীবনধারণের জন্য ৪০ হাজার, দুই সন্তানের ভরণ-পোষণ ও ইংলিশ মিডিয়ামে লেখাপড়াবাবদ মাসে ৬০ হাজার টাকা আল-আমিনের কাছে পাওয়ার হকদার বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
স্ত্রী ইসরাত জাহান পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ তুলে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। যেখানে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা ভরণপোষণ দাবি করেন তিনি। ২০১০ সালের পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইনের ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।