নভেম্বর ৮, ২০২২, ০৪:৩২ পিএম
বুয়েটছাত্র ফারদিন নূর পরশের বাবা কাজী নুর উদ্দিন রানা তাঁর পুত্রহত্যার বিচার চেয়ে বলেছেন, ‘এটা হত্যাকাণ্ড। আমার ছেলেকে ফিরে পাবো না। কিন্তু হত্যায় যাঁরা জড়িত তাঁদের বিচার চাই। প্রধানমন্ত্রী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাই।’
মঙ্গলবার বুয়েটের কেন্দ্রীয় মসজিদে ফারদিনের জানাজা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। তিনি এ সময় আরও বলেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে আমরা শুধু জানতে চাই, তাঁর সাথে কী হয়েছে। তাঁর হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে সহযোগিতা চাই। আমাদের দাবি, আর যেন কোনো মায়ের বুক খালি না হয়।’
হত্যাকাণ্ড মনে হওয়ার পেছনের কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ফারদিনের বাবা বলেন, ‘আমার ছেলেটা লেখাপড়ায় অনেক মেধাবী ছিল। লেখাপড়ার পাশাপাশি ডিবেটিং করত, গবেষণার কাজে ছিল, জার্মানিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্কে বুয়েটের হয়ে অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তাঁর পাসপোর্ট করা হয়েছে। ভিসাও হয়ে গেছে ৷ এরই মধ্যে এ ঘটনা ঘটে গেল।’
কাজী নূর বলেন, ‘এটা হত্যাকাণ্ড ছাড়া কিছুই বলার নেই। কারণ তাঁর দেহে আঘাতের চিহ্ন আছে। তার পকেটে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ, হাতঘড়িসহ সব ছিল। কিছুই নেওয়া হয়নি। সব পাওয়া গেছে। আমার কোনো শত্রু আছে বলে মনে করি না। আমি কারও ক্ষতি করিনি। তাঁর সাথে কারও দ্বন্দ্ব ছিল না। এরপরও যদি কিছু পেতে হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকরী বাহিনীর তদন্তে ডিজিটাল বাংলাদেশে তাঁর মুভমেন্ট জানতে চাই। ডিজিটালের মাধ্যমে আমরা জানতে পারবো কার সাথে তাঁর যোগাযোগ ছিল। আমার জানা কিছু ছিলও না।’
নিহতের বড় চাচা কে এম মহিউদ্দিন বাবু বলেন, বাসা থেকে রামপুরায় বন্ধুদের সাথে দেখা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা বলেছিল। পরদিন তাঁর পরীক্ষা ছিল। কিন্তু সেখানে অনুপস্থিত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিষয়টি জানানো হয়। তখন ৫ তারিখ রাত ১১টার দিকে পরিবার রামপুরা থানায় গিয়ে জিডি করে। রাত ১০টা পর্যন্ত তার মোবাইল ফোন চালু ছিল।
পরিবারের পক্ষ থেকে কারও প্রতি সন্দেহ আছে কি না, জানতে চাইলে কে এম মহিউদ্দিন বাবু বলেন, ‘সন্দেহ নেই কারও প্রতি। আমাদের জানামতে, তাঁর সাথে কারো শত্রুতা নেই। পরিবারের বড় সন্তান। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগামী মাসে জার্মানি যাওয়ার কথা ছিল। আমরা এই হত্যার পেছনে জড়িতদের বিচার চাই। তাঁর সাথে কী হয়েছে এটা তদন্তের জন্য প্রধানমন্ত্রী ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি অনুরোধ জানাই। আমার ভাতিজা শুধু পরিবারের না, দেশের সম্পদ। সে অত্যন্ত মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। তাঁর হত্যার বিচার চাই।’
বুয়েটের শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করেছেন নিহত পরশের সহপাঠীরা। এটিকে তাঁরা হত্যাকাণ্ড মনে করছেন। তাই এই হত্যায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এদিকে জানাজা শেষে পরশের মরদেহ ডেমরায় তাঁর সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সালাউদ্দিন স্কুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নিজ বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁর দাফনের কথা।