ইতিহাস গড়ল রড

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

নভেম্বর ১৫, ২০২১, ১০:০৪ পিএম

ইতিহাস গড়ল রড

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে এমএস (মাইল্ড স্টিল) রডের দাম। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে টনপ্রতি এমএস রডের দাম ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে রড তৈরির কাঁচামাল স্ক্র্যাপ ও বিলেটের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পণ্যটির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে বলে জানিয়েছেন খাত-সংশ্লিষ্টরা। এই গতিতে চলতে থাকলে চলতি বছরেই টনপ্রতি লাখ টাকা হবে রডের দাম।

ইতিহাসের সর্বোচ্চ দাম 

বর্তমানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্রতি টন ৭৫-গ্রেডের রড বিক্রি হচ্ছে ৮২ হাজার থেকে ৭৮ হাজার টাকায়। দুই সপ্তাহ আগেও এই গ্রেডের প্রতি টন রডের দাম ছিল ৬৭ হাজার থেকে ৭৩ হাজার টাকা। এদিকে রডের পাশাপাশি অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে ইস্পাত তৈরির কাঁচামাল বিলেট, প্লেট ও স্ক্র্যাপের দামও। বর্তমানে বাজারে প্রতি টন স্ক্র্যাপ ৫৫ হাজার টাকা, প্লেট ৬০ হাজার টাকা এবং বিলেট ৬৬ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুই সপ্তাহে আগে স্ক্র্যাপ ৫০ হাজার টাকা, প্লেট ৫৬ হাজার টাকা এবং বিলেট ৬০-৬১ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

এর আগে দেশে রডের সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল ওয়ান/ইলেভেনের (২০০৭ সালের ১১ নভেম্বর সারাদেশে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা-হানাহানি) সময়। সে সময় দেশজুড়ে দেখা দেওয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে এক টন রড বিক্রি হয়েছিল ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

সরকারি হিসেবেও বেড়েছে দাম 

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অফ বাংলাদেশের (টিসিবি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রডের দাম গত বৃহস্পতিবার প্রতি টনে আগের দাম ৭৭ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৪ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়েছে। 

টিসিবির তথ্য থেকে জানা গেছে, ৬০ গ্রেডের রডের দাম গত মাসে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে এবং গত এক বছরে বেড়েছে ৩২ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

কেএসআরএম গ্রুপের জেনারেল ম্যানেজার (সেলস) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, 'রডের দাম বৃদ্ধির প্রধান কারণ আর্ন্তজাতিক বাজারে স্ক্র্যাপ ও স্ক্র্যাপ জাহাজের বুকিং দর বৃদ্ধি। ২০২০ সালে জুলাই থেকে সেপ্টম্বর পর্যন্ত আর্ন্তজাতিক বাজারে প্রতি টন স্ক্র্যাপের দাম ছিল ২৬৫-২৭০ ডলার। কিন্তু বর্তমানে স্ক্র্যাপের বুকিং দর ৬০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

উৎপাদকরা আন্তর্জাতিক বাজারে মেল্টিং স্ক্র্যাপের খরচ বেড়ে যাওয়াকে স্থানীয় বাজারের দাম বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন। বর্তমানে কাঁচামালের খরচের তুলনায় ইস্পাতের খুচরা মূল্য এখনও উৎপাদন খরচের চেয়ে কম আছে। আগামীতে দাম আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তেলের দাম বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দামের ঊর্ধ্বগতির কারণে রডের মূল্য প্রতি টনে ১ লাখ টাকায় পৌঁছে যেতে পারে।

আগে থেকেই বাড়ছিল দাম

রাজধানীর বংশাল এলাকার খুচরা বিক্রেতা আবদুল মান্নান জানান, তাদেরকে পাইকারি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক কাঁচামাল সংকট ও ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের কারণে মূল্য বেড়েছে। মান্নান বলেন, 'গত ৬ মাস ধরে ধীরে ধীরে দাম বাড়ছে। কিন্তু গত ১৫ দিনে প্রতি টনে ৮ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা বেড়েছে। 

আমদানি বৃদ্ধি ও রেমিট্যান্স প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য ১১ নভেম্বরে ৮৫ দশমিক ৭৯ টাকা হয়েছে, যেটি ১ বছর আগে ৮৪ টাকা ছিল।

প্রকল্প বাস্তবায়নে হিমশিম খাচ্ছে ব্যবসায়ীরা

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ কন্সট্রাকশান ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শফিকুল হক তালুকদার বলেন, কাঁচামালের দাম বাড়তে থাকায় আমাদের প্রকল্পগুলো সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে।

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামিন কাজল বলেন, নির্মাণের খরচ ইতোমধ্যে বেড়েছে, কিন্তু ভোক্তাদের সঙ্গে আগে থেকে চুক্তিবদ্ধ থাকার কারণে তারা বর্ধিত মূল্যের সমন্বয় করতে পারছেন না।

মার্চ থেকেই স্থবিরতা

ইস্পাত খাতের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, করোনার কারণে অন্যান্য খাতের মতো গত বছরের মার্চ থেকে স্থবিরতা শুরু হয় দেশের নির্মাণ খাতেও। করোনা ও বর্ষার কারণে টানা ৫-৬ মাস স্থবিরতা শেষে ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে ফের চাঙা হতে শুরু নির্মাণ খাত। এরপর দফায় দফায় বাড়তে থাকে নির্মাণ পণ্য এমএস রডের চাহিদা।

গত বছরের নভেম্বর থেকে চলতি নভেম্বর পর্যন্ত পণ্যটির দাম টন প্রতি ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। এরমধ্যে সর্বশেষ গত দুই সপ্তাহে পণ্যটির দাম সর্বোচ্চ ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

Link copied!