করোনার থাবায় অনাড়ম্বর সরস্বতী পূজা

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২১, ০৭:১৩ পিএম

করোনার থাবায় অনাড়ম্বর সরস্বতী পূজা

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মন্দির ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজার সেই চিরচেনা জৌলুস নেই এই বছর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে সংক্ষিপ্তভাবে হয়েছে সামগ্রীক আয়োজন। প্রতি বছরের ন্যায় এইবার অনুষ্ঠানমালায় পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ,ধর্মীয় আলোচনাসভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সন্ধ্যা আরতি, আলোকসজ্জা প্রভৃতি সংকুচিত ছিল অনেকটাই। তবুও বিদ্যার দেবীর পাদপদ্মে অঞ্জলি দিতে আগ্রহের কমতি ছিল না কারো। মহাসমারোহ না থাকলেও মনে ছিল বিশ্বাস আর আগ্রহের সাজ-সজ্জা। 

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানালোকের প্রতীক। বিদ্যা, সংগীত ও শিল্পকলার দেবী স্বরস্বতীর আরাধনার উদ্দেশ্যে সরস্বতী পূজা হয়। শাস্ত্রীয় বিধান অনুসারে মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে এই পূজা হয়ে থাকে। সরস্বতীর বাহন রাজহাঁসে চড়ে বীণা হাতে দেবী পৃথিবীতে আসেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই পূজায় সকলের সর্বজনীন অংশগ্রহণ থাকে বলে শান্তি ও সম্পৃতির প্রতীক হিসেবে সরস্বতী পূজা স্বীকৃত।

সরস্বতী পূজা উপলক্ষে রাজধানীর সর্বাপেক্ষা আকর্ষণীয় আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  জগন্নাথ হল মাঠে। জগন্নাথ হলের এই পূজাকে বলা হয় দক্ষিণ এশিয়ার সর্বাপেক্ষা বড় আয়োজন। বিভিন্ন বিভাগ ও ইন্সটিটিউটের  শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে জগন্নাথ হলের মাঠে ৬০-৭০টি মণ্ডপে পূজা হয় প্রতি বছর। বিশেষ আকর্ষণ হিসাবে হল পুকুরে চারুকলার শিক্ষার্থীদের জমকালো সরস্বতী প্রতিমাটি নজর কাড়ে দর্শনার্থীদের। এইবার করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বন্ধ রয়েছে। মহামারি পরবর্তী এই সময়ে তাই জগন্নাথ হলের উপসনালয়ে হয়েছে একটিমাত্র পূজা যেখানে দর্শনার্থীদের জন্যে ছিল নির্ধারিত সময়। তাই সকাল নয়টা থেকে বিকেল চারটার মধ্যে যারা পূজা মণ্ডপ  দর্শন করতে আসতে পারেননি তাদের ফিরে যেতে হয়েছে নিরাশ হয়ে। তাছাড়া মেয়েদের পাঁচটি হলের পূজাও অনুষ্ঠিত হয়নি এই বছর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছাড়াও ঢাকার বিভিন্ন জায়গা থেকে নানা বয়সী এবং পেশাজীবীরা এই পূজায় অংশ নিতে জগন্নাথ হল চত্বরে জমায়েত হোন। এবার করোনা পরিস্থিতির কারনে দেখা গেছে তার ব্যতিক্রম চিত্র।

Link copied!