ত্রুটিপূর্ণ পাঠ্যবই প্রত্যাহার, শিক্ষা উপকরণের মূল্যহ্রাসের দাবিতে বিক্ষোভ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জানুয়ারি ৭, ২০২৩, ০৬:৪২ পিএম

ত্রুটিপূর্ণ পাঠ্যবই প্রত্যাহার, শিক্ষা উপকরণের মূল্যহ্রাসের দাবিতে বিক্ষোভ

নতুন বছরের পাঠ্যবইয়ে তথ্যের অসঙ্গতি পাওয়ায় সেই বই প্রত্যাহার এবং কাগজ ও শিক্ষা উপকরণের মূল্যহ্রাস ও ফেলানী হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন। 

শনিবার (৭ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই সমাবেশ করেছে সংগঠনটি। এসময় বিভিন্ন ধরনের প্লেকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানান তারা। প্লেকার্ডে ‘পাঠ্যবইকে দলীয়করণ বন্ধ কর’, ‘ভুলে ভরা পাঠ্যবই বাতিল কর’, ‘নির্ভুল পাঠ্যবই পুনরায় ছাপাও’, ‘শিক্ষা ব্যয় কমাও!’, ‘কাগজের দাম কমাও’, গণরুম গেস্টরুমে ছাত্র নির্যাতন বন্ধ কর’, ‘ভয়মুক্ত শিক্ষাঙ্গন চাই’, ‘ফেলানী হত্যার বিচার চাই’ ইত্যাদি। সমাবেশ শেষে ক্যাম্পাসে সংক্ষিপ্ত মিছিলও করেন তারা।

সমাবেশে ছাত্র ফেডারেশনের নেতারা বলেন, তিন দফা দাবি আজকে আমরা জানাচ্ছি। সেগুলো বর্তমান সময়ের সবচেয়ে ক্রাইসিস চলছে। 

তিন দফা দাবিগুলো হলো— 

১. ভুলে ভরা পাঠ্যবই প্রত্যাহার করে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত নতুন বই সরবরাহ করতে হবে।

 ২. কাগজ এ শিক্ষা উপকরণের দাম কমাতে হবে। 

৩. মেট্রোরেলের ভাড়া কমাতে হবে ও শিক্ষার্থীদের হাফ পাশ দিতে হবে। 

সমাবেশে ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মশিউর রহমান খান বলেন, ‘নতুন বছরের বই দিয়েছে, সেই বইয়ে আমরা দেখেছি ভুলে ভরা, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। বইয়ের কাগজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। সেই বই ৫ মাস চলার পর নষ্ট হয়ে যাবে। তাহলে বছরের বাকি সময় শিক্ষার্থীরা কোন বই পড়বে। কাগজ-শিক্ষা উপকরণের দাম এতটা বেড়েছে যে নিম্ন আয়ের মানুষ তো বটেই মধ্যবিত্তরাও শিক্ষা উপকরণ কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। মুদ্রণশিল্প, প্রকাশনা শিল্প ব্যাহত হচ্ছে। আমরা দাবি জানাচ্ছি দাম কমানোর কিন্তু সরকার কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। কাগজের দাম কমাতে আপনারা মনোযোগী না, আপনারা দুর্নীতিবাজিতে মনোযোগী। জিনিসপত্রে দামে আপনাদের নিয়ন্ত্রণ নেই।’ 

তিনি আরও বলেন, শিক্ষা উপকরণের দাম বাড়ার কারণে শিক্ষার্থীরা ঝরে পড়ছে। তারা পড়াশোনা ছেড়ে কাজে নামছে। আপনারা একটা জ্ঞানশূন্য জাতি চান, যারা আপনাদের কথায় উঠবে আর বসবে। 

ঢাকা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মেহেদী বলেন, বাংলাদেশের নতজানু পররাষ্ট্র নীতির কারণে ১২ বছরেও ফেলানী হত্যার বিচার হয়নি। আজকে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশের যে ধোঁয়া তোলা হচ্ছে এটা একটা ফাঁকা বুলি। যেদিন বাংলাদেশে গুম-খুন হবে না, মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে, বিনা বিচারে মানুষকে গুলি করা হবে না তখনই সত্যিকারের স্মার্ট বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে। শিক্ষার্থীদের বলব এসব ফাঁকা আওয়াজে কান দিবেন না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আরমানুল হক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের ওপর দিয়ে মেট্রোরেল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এখান থেকে যে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে উঠে সেটিকে ব্যাহত করার জন্যই এখান দিয়ে মেট্রোরেল নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে মেট্রোরেলের যে ভাড়া পাশের দেশের চেয়ে আড়াই গুণ বেশি। শিক্ষার্থীদের জন্য হাফপাশ নিশ্চিত করা না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

Link copied!