পিএইচডি শিরোনামের ইংরেজি বলতে পারেনি, তারপরও নিয়োগের সুপারিশ!

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুলাই ২৭, ২০২২, ১২:১৩ এএম

পিএইচডি শিরোনামের ইংরেজি বলতে পারেনি, তারপরও নিয়োগের সুপারিশ!

পরীক্ষার ভাইভা বোর্ডে নিজের পিএইচডি গবেষণা শিরোনামের ইংরেজি বলতে না পারা একজন প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি)। সুপারিশকৃত ওই প্রার্থীর নাম সিদ্ধার্থ দে। সিলেকশন বোর্ডের তীব্র আপত্তি থাকা সত্ত্বেও ওই প্রার্থীকে নিয়াগের সুপারিশ ও অন্যান্য সদস্যদের সুপারিশ দিতে জোর করার অভিযোগ উঠেছে খোদ ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ৮ নভেম্বর শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগ। ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগে সহযোগী অধ্যাপকের পদে দুই জনকে স্থায়ী পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এ পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থীদের অবশ্যই গ্রাফিক ডিজাইন বিষয়ে উচ্চতর যোগ্যতার অধিকারী হতে হবে। তাদের পি.এইচ. ডি. কিংবা সমমানের ডিগ্রী থাকা বাঞ্ছনীয়। বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা কোনো উচ্চতর গবেষণা প্রতিষ্ঠানে তাদের কমপক্ষে সাত বছরের শিক্ষাদান এবং গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। শিক্ষক হিসেবে অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশেষ করে ছাত্র/ছাত্রীদের সামগ্রিক শিক্ষা ও শিক্ষা আনুষঙ্গিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বিশেষ অবদানও যোগ্যতা হিসেবে গণ্য করা হবে। বিশেষ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার সময়সীমার শর্ত শিথিল করা যেতে পারে ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের দুটি পদের জন্য মোট পাঁচ জন আবেদন করেন। তাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রাফিক ডিজাইন বিভাগের রয়েছেন চার জন। তারা হলেন- ড. সীমা ইসলাম, ড. ফারজানা আহমেদ, জনাব মো. বিকরেন সিদ্ধার্থ দে। তিনি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাফিক ডিজাইনের শিক্ষক। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন প্রার্থীর মধ্যে দুজনের পি.এইচ. ডি. ডিগ্রি ছিলো, যা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত যোগ্যতা পরিপূর্ণ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে গত ২০২২ সালের ৪ জুলাই সিলেকশন বোর্ড বসে। বোর্ডে ভিসি প্রফেসর ড. আখতারুজ্জামান ছাড়াও আরও পাঁচজন ছিলেন। তারা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক নিসার হোসেন, অধ্যাপক ড. ফরিদা জামান, অধ্যাপক রফিকুন নবী (রনবী), অধ্যাপক এফ এম কায়সার ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অলক রায়। সিলেকশন বোর্ডে শিক্ষকদের মধ্যে অধ্যাপক এফ এম কায়সার বিশেষজ্ঞ সদস্য হিসাবে ছিলেন।

সিলেকশন বোর্ডের একাধিক সদস্যের অভিযোগ, সিলেকশন বোর্ডে নিয়োগ প্রার্থী সিদ্ধার্থ দে কে যেসব প্রশ্ন  করা হয় তার আশানুরূপ কোনো জবাব দিতে পারেননি। এমনকি ভিসি তাকে তার পি.এইচ. ডি. শিরোনামের ইংরেজি বলতে বললেও তিনি তাও বলতে পারেননি। নিজের পি.এইচ. ডি. শিরোনামের ইংরেজি বলতে না পারায় ওই সময় তাকে নানান কথা শোনান ভিসি। এছাড়া, তিনি যেসব কাজ করেছেন তার সেসব কাজে সিলেকশন বোর্ডের কোনো সদস্য সন্তুষ্টও ছিলেন না।

তারপরও ভিসি ওই প্রার্থীকে নিয়োগের সুপরিশ করে এবং সুপারিশ দিতে অন্যান্য সদস্যদেরও জোর করেন। বোর্ডের একাধিক সদস্য জানান, সিলেকশনের নামের তালিকা করার পূর্বে বোর্ডের সদস্যদের মতামত নিতে হয়। অথচ ভিসি কারো মতামত না নিয়ে নিজ ক্ষমতা বলে নামের তালিকা তৈরি করেন এবং সবাইকে সেখানে স্বাক্ষর করতে জোর করেন। অথচ তিনি এরকম করতে পারেন না বলে তাদের অভিযোগ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিলেকশন বোর্ডের এক সদস্য বলেন, বিভাগের শিক্ষকরা তাকে নিতে চান না। বোর্ডে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অলক রায় বলেছিলেন, আমার মনে হয় না, সিদ্ধার্থ দে এর চারুকলায় পড়ানোর যোগ্যতা আছে। ওই বিজ্ঞপ্তিতে পি.এইচ. ডি. বাধ্যতামূলক ছিলো। ক্যান্ডিডেটদের মধ্যে বিভাগের দুজনের পি.এইচ. ডি. ছিলো। এর আগে সে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারার পদে আবেদন করেছিলো কিন্তু তাকে নেওয়া হয়নি। সাধারণত লেকচারার পদে কাউকে একবার না নিলে পরে আর তাকে নেওয়া হয় না।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য ভিসি  প্রফেসর ড. মো. আখতারুজ্জামানকে একাধিক বার  ফোন দেওয়া হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

Link copied!