প্রশ্নে সাম্প্রদায়িক উসকানির ঘটনায় জড়িত শিক্ষকরা চিহিৃত: শিক্ষামন্ত্রী

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

নভেম্বর ৯, ২০২২, ০৪:৪৮ পিএম

প্রশ্নে সাম্প্রদায়িক উসকানির ঘটনায় জড়িত শিক্ষকরা চিহিৃত: শিক্ষামন্ত্রী

চলতি বছরে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার বাংলা প্রথম পত্রের প্রশ্নপত্রে সাম্প্রদায়িক উসকানি দেওয়ার ঘটনায় জড়িত শিক্ষকদের চিহিৃত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দেখে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

বুধবার রাজধানীর জাতীয় যাদুঘরে আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ স্বাধীনতা ফাউন্ডেশন নামে একাটি বেসরকারি সংগঠন একাত্তরের গণহত্যার জাতিসংঘের স্বীকৃতির দাবিতে ওই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

এর আগে, ২০২২ সালের এইচএসসির বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক প্রশ্নের পেছনে জড়িত পাঁচ শিক্ষককে চিহ্নিত করে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা এম এ খায়ের অভিযুক্ত শিক্ষকদের নাম ও পরিচয় জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘ঝিনাইদহের মহেশপুরের ডা. সাইফুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার পাল বাংলা প্রথম পত্রের বিতর্কিত প্রশ্নটি করেছেন। প্রশ্নটির মডারেশেন (পরিশোধনকারী) করেছেন, সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. শফিকুর রহমান, নড়াইলের সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ তাজউদ্দীন শাওন, মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের সহকারী অধ্যাপক শ্যামল কুমার ঘোষ, কুষ্টিয়া ভেড়ামারা আদর্শ কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. রেজাউল করিম।

প্রসঙ্গত, এইচএসসির বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক প্রশ্ন করা হয়। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়।

বাংলা প্রথম পত্রের এই প্রশ্ন নিয়ে শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িকতা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলেও প্রশ্নপত্রে ভিন্ন চিত্র ফুটে উঠেছে। দেশের বাস্তবিক চিত্রও এমন নয়। ধর্মীয় নানা উৎসবে দল-মত নির্বিশেষে এ দেশের মানুষ সবাই অংশগ্রহণ করে। পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্ন কাঠামো কেমন হবে-এ ধরনের লিখিত নির্দেশনা এবং প্রশ্ন প্রণেতা ও প্রশ্ন সেটারদের ওরিয়েন্টশন করানো হয়। এর পরেও অমূলক প্রসঙ্গ টেনে ধর্মীয় উসকানি দেওয়া হয়েছে। এতে করে সমাজে বিদ্বেষ ছড়াতে পারে বলেও তারা মনে করেন।

বাংলা প্রথম পত্রের ওই প্রশ্নে লেখা হয়েছিল-‘নেপাল ও গোপাল দুই ভাই। জমি নিয়ে বিরোধ তাদের দীর্ঘদিন। অনেক সালিশ-বিচার করেও কেউ তাদের বিরোধ মেটাতে পারেনি। কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। এখন জমির ভাগ বণ্টন নিয়ে মামলা চলছে আদালতে। ছোট ভাই নেপাল বড় ভাইকে শায়েস্তা করতে আব্দুল নামে এক মুসলমানের কাছে ভিটের জমির এক অংশ বিক্রি করে। আব্দুল সেখানে বাড়ি বানিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। কোরবানির ঈদে সে নেপালের বাড়ির সামনে গরু কোরবানি দেয়। এই ঘটনায় নেপালের মন ভেঙ্গে যায়। কিছুদিন পর কাউকে কিছু না বলে জমি-জায়গা ফেলে সপরিবারে ভারতে চলে যায় সে।’

Link copied!