বাংলার প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ১৯২১ সালের ১ জুলাই যাত্রা শুরু করেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। কালের বিবর্তনে বহু উত্থ্যান পতনের সাক্ষী হয়ে ১০০ বছর পূর্ণ করল আজ প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রকোপ ঠেকাতে সাত দিনের কঠোর বিধি-নিষেধেরও আজ প্রথম দিন। তাই চলতি লকডাউনকে সামনে রেখে কোন ধরনের জাক জমক পূর্ণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হচ্ছে না। শতবর্ষের মূল অনুষ্ঠান ১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
তবে অনলাইনে স্বল্প পরিসরে প্রতীকী কর্মসূচী গ্রহণ করা হয়েছে। সেখানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে বিকেল চারটায় এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মূল বক্তা হিসেবে ছিলেন ভাষাসৈনিক, কলামিস্ট ও বুদ্ধিজীবী আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরী। তিনি ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ: ফিরে দেখা’ শীর্ষক মূল বক্তব্য প্রদান করেন।
শতবর্ষের এই দিনকে ঘিরে ছিল হাজারো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সাধারণের আবেগের স্থান। তাই জামজমক পূর্ণ অনুষ্ঠান না হলেও সকাল থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লক্ষ্য করা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে শতবর্ষের আবেগীয় পোস্ট ও শুভেচ্ছা বার্তা। তবে অনেকেই নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে দিনটি পালন করতে না পেরে দুঃখ প্রকাশ করছেন। আবার অনেকেই উপহার হিসেবে আকঁছেন বিদ্যাপীঠের ছবি। ফেসবুকের প্রোফাইল ছবিটিও অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষের ফ্রেম দিয়ে সাজিয়ে তুলেছেন।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে সচ্চোরভাবে সংগ্রামে ছিল যে বিশ্ববিদ্যালয়। তার প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরের মধ্যেই এ দেশ পরিনত হয় স্বাধীন- সার্বভৌম রাষ্ট্রে। সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের কেন্দ্রস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হলেও শেষ দিকে এসে এর গৌরব স্মৃতি অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। এক সময় জ্ঞানচর্চা, বিজ্ঞান ও সামাজিক গবেষণায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী থাকলেও বর্তমানে উন্নিত হয়নি পাঠদানের মান। বরং অনেকাংশে সে মান কমেছে। পড়াশুনায় মনোনিবেশ কমিয়ে অসামঞ্জস্য ছাত্ররাজনীতির দিকে ঝুঁকছে শিক্ষার্থিরা। হলে খাবার ও বাসস্থানের মান নির্ভর করে দলীয় ছাত্রসংঘের ওপর। এছাড়াও শিক্ষক নিয়োগে থাকে স্বজনপ্রীতি। যদিও সমস্যা সমাধানে লক্ষ্য করা যায়নি তেমন কঠোর পদক্ষেপ।
তবে এখনো নিম্ন আয় ও মেধাবী শিক্ষার্থিদের জ্ঞানার্জনের আশ্রয়স্থল এ শিক্ষালয়। সাধারনের ভাষ্যমতে, প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার অবকাঠামোর গন্ডিতে প্রত্যেকটি বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থির যে হাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও এর বাইরে নয়। গবেষণাপত্রের সংখ্যায় ও বৈশ্বিক র্যাংকিয়ে এখনো পিছিয়ে আছে প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত এ প্রতিষ্ঠানটি। তবে স্বল্প খরচে শিক্ষালাভের কথা বিবেচনা করলে, এই বিশ্ববিদ্যালয় এখনো তুলনাহীন।