ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবাহিত ছাত্রীদের আবাসিক হলের সিট বাতিল কোন সভ্য নিয়ম হতে পার না। এধরনের নিয়মের কঠোর সমালোচনা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক চেয়ারপারসন অ্যধাপক কাবেরী গায়েন।
কাবেরী গায়েনের মতে, “এটা কোনো সভ্য নিয়ম হতে পারে না। দ্রুত এই নিয়মের অবসান হওয়া দরকার।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের পাঁচটি হলে আসন বণ্টনসম্পর্কিত নীতিমালার একটি ধারায় বলা আছে, ‘কোনো ছাত্রী বিবাহিত হলে অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। অন্যথায় নিয়ম ভঙ্গের কারণে তার সিট বাতিল হবে। শুধু বিশেষ ক্ষেত্রে বিবাহিত ছাত্রীকে চলতি সেশনে হলে থেকে অধ্যয়নের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রী হলে থাকতে পারবেন না।’-বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি বেশ আলোচনা–সমালোচনা চলছে।
কাবেরী গায়েন বলেন, তারা যখন ছাত্রী ছিলেন, তখনো বিবাহিত ছাত্রীদের ক্ষেত্রে ওই নিয়ম ছিল। ছাত্রাবস্থায় তারা নিয়মটির বিরোধিতা করেছেন।
কাবেরী গায়েন বলেন, “তখন বিয়ে হলেই মেয়েদের হলের সিট কাটা যেত। বলা হতো, হলে সিট–সংকট আছে। যে মেয়েটির বিয়ে হয়ে যাচ্ছে, তার তো ঢাকাতেই বাসা আছে। যেসব মেয়ের ঢাকায় বাসা থাকত না, তাদের খুবই অসুবিধা হতো।”
কাবেরী গায়েন বলেন, “কোনো ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হলে কিছু সমস্যা থাকে। হলে অন্য যে মেয়েরা থাকেন, তাদের ঝামেলা হতে পারে। তবে একজন শিক্ষার্থী তো শিক্ষার্থীই।”
এর আগে, মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের বরাবর দেওয়া এক আবেদনে পাঁচটি ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীরা বিবাহিত ও অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীদের ক্ষেত্রে ‘থাকা’ নিয়মটি বাতিলসহ ৪ দফা দাবি জানান।