‘প্রত্যয়’ স্কিম বাতিলের দাবি রাবি শিক্ষকদের

রাবি প্রতিনিধি

মে ২৬, ২০২৪, ০৮:৩০ এএম

‘প্রত্যয়’ স্কিম বাতিলের দাবি রাবি শিক্ষকদের

মানববন্ধনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ছবি: দ্য রিপোর্ট ডট লাইভ

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সার্বজনীন পেনশনের অন্তর্ভুক্ত না করার দাবি জানিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (রাবিশিস)।

রোববার (২৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এই দাবি জানান তারা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সুপার গ্রেডে অন্তর্ভূক্তকরণ ও স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনের দাবিও জানানো হয়।

শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ছবি: দ্য রিপোর্ট ডট লাইভ

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ব্যাংকিং ও ইন্স্যুরেন্স বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় ফেডারেশনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা এখানে দাঁড়িয়েছি। যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো পেনশন ব্যবস্থা ছিল না, সেগুলোতে সার্বজনীন পেনশনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু দেশের চারটি স্বায়ত্ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়, যেগুলো ‘৭৩’র নিয়ম অনুযায়ী চলে সেগুলোতে পেনশন ব্যবস্থা আগে থেকেই চালু আছে। তারপরও এই সরকার কিসের ভিত্তিতে বা কার চক্রান্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও সার্বজনীন পেনশনের আওতায় নিয়ে এলো? আমরা (সেটা) জানি না। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে এই প্রজ্ঞাপনের বাইরে রাখার দাবি জানাচ্ছি।”

প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম বলেন, “আগের পেনশন ব্যবস্থায় আমাদের কোনো সমস্যা হয়নি। আমরা সন্তুষ্ট ছিলাম। কিন্তু এই বছরের জুলাই থেকে যারা নতুন নিয়োগ পাবে। তারা এই স্কিমের আওতায় পড়বে। আর এই স্কিমের জন্য আমাদের সঙ্গে তাদের একটা বড় বৈষম্যের সৃষ্টি হবে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে জাতি গঠনের কারখানা মনে করি। শিক্ষকরা এই কারখানার কারিগর হয়ে থাকেন। এই পেশায় যারা আসবেন তারা মেধাবী শিক্ষার্থী। তাই এই পেশায় যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা না আসে তার জন্য একটা চক্রান্ত করা হচ্ছে বলে আমি মনে করি।”

মানববন্ধন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। ছবি: দ্য রিপোর্ট ডট লাইভ

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, “শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে যখন সবাই প্রশংসা করছিল ঠিক সেই সময়ই বৈষম্যমূলক এই প্রত্যয় স্কিম ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত আমাদের যে সংবিধান আছে তার মুল চেতনার পরিপন্থী। প্রজ্ঞাপনের এই সিদ্ধান্ত যদি প্রবর্তিত হয়, তবে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করবে তাদের সঙ্গে একটা বৈষম্য তৈরি হবে।”

পরবর্তী কর্মসূচি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “আগামী ২৮ তারিখ দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করবো। তারপরেও যদি দাবি মানা না হয় তাহলে নতুন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।”

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. ওমর ফারুক সরকারের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক মানিকুল ইসলাম, প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম, একই বিভাগের অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, আমীরুল ইসলামসহ আরও অনেকে। এ সময় মানববন্ধনে অর্ধশত শিক্ষক ও কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

Link copied!