বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল ইউনিটের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে গেস্টরুমে নির্যাতন, চাঁদাবাজিসহ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন হল কমিটি ঘোষণার পর থেকে নিয়মিত বিরতিতে বেশ কিছু ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
দুই মাসে অন্তত ২০টি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ ঘটনা ঘটেছে। গত ১০ মার্চ বঙ্গবন্ধু হলের আবাসিক ছাত্র আবু তালিব সিনিয়রের সামনে সিগারেট খাওয়ায় নির্যাতনের শিকার হন। মারধরের পর তার মুখে জোর করে সিগারেট ভরে দেওয়া হয়। তালিবকে বলা হয় হাতের ব্যবহার না করে ধুমপান করতে। ঘটনার পর বেশ কয়েকজনের নাম উঠে আসে। নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন ছাত্রলীগকর্মী সমাজকল্যাণ বিভাগের শেখ শান্ত আলম, তথ্য বিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের শাহাবুদ্দিন ইসলাম বিজয়, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ইমদাদুল হক বাঁধন এবং আইন বিভাগের নাহিদুল ইসলাম ফাগুন। তারা সবাই তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এবং বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান শান্তর অনুসারী। রাজিমুল হক রাকিব, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০১৬-১৭ সেশনের ছাত্র। তিনি একটি রাজনৈতিক প্রোগ্রামে যোগ দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় 'গেস্টরুমে' একটি মিটিংয়ে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল থেকে মারধর করা হয়।
সলিমুল্লাহ হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তানভীর সিকদার ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করা হলেও তিনি অস্বীকার করেন। অপর একটি ঘটনায় জগন্নাথ হলের সাধারণ সম্পাদক অতনু বর্মণ অতনু ও তার অনুসারীদের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর প্রতিবাদ করায় ফাইনাল ইয়ারের ছাত্র রাকিবুল হাসান সজিবকে মারধর করেন। অতনু তার সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছে, তবে সে বলে, 'তার অনুসারী এবং ভুক্তভোগীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল।' ওদিকে স্যার এ এফ রহমান হলের সভাপতি সভাপতি রিয়াজুল ইসলামের সমর্থকদের বিরুদ্ধেও এক সাংবাদিকদের মারধরের অভিযোগ রয়েছে। গত ২৬ মার্চ বিজয় ৭১ হলের এক ছাত্রের ওপর হামলা চালায় একদল ছাত্র। ঘটনার পর হামলার সঙ্গে জড়িত বিএসএল নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ভিকটিম। হল প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে ছয় শিক্ষার্থীকে দোষী সাব্যস্ত করে তাৎক্ষণিকভাবে হল থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করে।
চাঁদাবাজির টাকা না দেওয়ায় ৭টি দোকান বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে অমর একুশে হল শাখার শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে। দোকানদাররা জানান, ১২ মার্চ এনায়েত এইচ মনন ও ইমদাদুল হাসান বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীসহ তাদের দোকানে গিয়ে টাকা দাবি করেন। একপর্যায়ে তারা দোকানপাট বন্ধ করার নির্দেশ দেন। আজিজ সুপার মার্কেটে গিয়ে চাঁদাবাজির আরেকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে বঙ্গবন্ধু হল শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান শান্তের অনুসারীদের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতারা জানিয়েছেন, নতুন কমিটি গঠনের পর থেকেই ছাত্রছাত্রীদের কল্যাণে ছাত্রলীগ কাজ করছে। প্রতিবেদনের তথ্য বানোয়াট এবং ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে বিতর্কিত তথ্য দেওয়া হচ্ছে বলে জানান ছাত্রলীগ নেতারা।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস বলেন, ছাত্রনেতাদের বিরুদ্ধে আমরা লিখিত কোন ধরনের অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান এ ছাত্রনেতা।
প্রক্টর একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, “যেসব ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, সেসব ঘটনার তদন্ত প্রশাসন শুরু করেছে।