এতো পাস যাবে কোথায়?

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জানুয়ারি ৩১, ২০২১, ০২:২১ পিএম

এতো পাস যাবে কোথায়?

করোনা মহামারির কারণে এ বছর এইচএসসি-সমমানের পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে চিন্তিত ছিলেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। শনিবার সকালে সেই পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের মাধ্যমে সকলের উৎকণ্ঠার অবসান ঘটে। কিন্তু ফলাফল নিয়ে উৎকণ্ঠা গেলেও এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার আসন নিয়ে তৈরি হবে নতুন সংকট। কারণ, ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার মোট পাস করেছেন ১৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৭৭ জন পরীক্ষার্থী। এরমধ্যে জিপিএ-৫-ই পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন! গতবার পাসের হার ছিল ৭৩.৯৩ ভাগ। এবার পাসের হার শতভাগ। এবার উত্তীর্ণদের বিরাট একটি অংশই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন,এত পাস করা শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার জন্য যাবে কোথায়!

২০১৮ সালের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সারাদেশে সরকারি, বেসরকারি এবং বৃত্তিমূলক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার জন্য ১১ লাখ আসন রয়েছে রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন রয়েছে সাড়ে ৮ লাখ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে এক লাখ ৮০ হাজার এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় (মেডিক্যাল কলেজসহ) ৫৬ হাজার। এর ফলে পাস করা সব শিক্ষার্থীর ভর্তির সুযোগ হবে না।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক দ্য রিপোর্ট কে বলেন, ‘সবাই যে উচ্চশিক্ষায় যাবে তাতো নয়,কেউ কেউ অন্য কাজেও যোগদান করবে বা করে ফেলেছে। আমাদের যতগুলো বিশ্ববিদ্যালয় আছে সেগুলোতে যারা পরীক্ষা দেবে সবাই তার মেধা অনুযায়ী সুযোগ পাবে বলে আমি মনে করি। তবে যে সমস্যাটা হতে পারে,সেটি হল প্রত্যেকে তার পছন্দমতো বিশ্ববিদ্যালয় অথবা সাবজেক্ট না-ও পেতে পারে। এ সমস্যা প্রত্যেকবারই হয়ে থাকে। আর সরকার এখনো সিট বাড়ানোর বিষয় কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে অনেকগুলো নতুন বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন করেছিলো। তারা যদি তাদের অস্থায়ী ক্যাম্পাস বাড়িয়ে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করায় তবে সেটিও করাতে পারে।’’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন,উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১৪ লাখ শিক্ষার্থীর সংস্থান করার ক্ষমতা নেই। সর্বোচ্চ ৮ লাখ শিক্ষার্থীকে স্থান দেওয়া সম্ভব। বাকিদের বৃত্তিমূলক শিক্ষার দিকে যেতে হবে। তবে সকল পরীক্ষার্থীকে পাস নম্বর দেওয়া ছাড়া সরকারের আর কোনও উপায়ও ছিল না।এ অবস্থায় ভার্সিটি কর্তৃপক্ষ ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে রয়ে সয়ে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো.আখতারুজ্জামান যেমনটা গণমাধ্যমকে বলেছেন, ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে তারা তাড়াহুড়ো চান না। বিশ্ববিদ্যালয়ে গত শিক্ষাবর্ষে যারা ভর্তি হয়েছিলেন,তাদের শ্রেণিকক্ষে ক্লাস হয়নি বললেই চলে। তাদের পরীক্ষাও হয়নি। এ অবস্থায় তাড়াহুড়ো করে নতুন করে প্রথম বর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করা সমীচীন হবে না। ফলে মার্চের আগে ভর্তি পরীক্ষা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা বসে পরীক্ষার তারিখ ঠিক করবেন।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে তারা ভর্তির কাজটি শেষ করতে চায়। আর তাদের সমস্যা হবে না। কারণ, তারা প্রচলিত নিয়মে ভর্তি পরীক্ষা ছাড়া এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করবে।

সাত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে। তবে ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আলাদাভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেবে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কবে, কীভাবে ভর্তি পরীক্ষা নেবে, তা ঠিক করতে আলোচনা করছে।

চারটি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আলোচনা করলেও এখনো গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি।

গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে শুরু করলে তা স্থগিত করা হয়। মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও পরীক্ষা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি না হওয়ায় গত অক্টোবর সরকার জানায়, পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনীর মতো এইচএসসি পরীক্ষাও নেওয়া যাচ্ছে না। এরপর আইন সংশোধন করে পরীক্ষা ছাড়াই মূল্যায়নের পথ বের করে এই ফল দেওয়া হল।

 

Link copied!