জুন ২৫, ২০২২, ০১:৪১ পিএম
২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৭৯ কোটি ১৩ লাখ টাকার বাজেট সিনেটের বার্ষিক অধিবেশন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এ বাজেটে ঘাটতি ৪২ কোটি ৯০ লাখ ১৭ হাজার টাকা। শুক্রবার সাড়ে তিনটায় সিনেট হলে উপাচার্য অধ্যাপক নূরুল আলমের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া ৩৯তম অধিবেশনে এ বাজেট অনুমোদন করা হয়। তবে বাজেটে চিকিৎসা খাতে দুই কোটি ৭৪ লাখ ১১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা মোট বাজেটের শূন্য দশমিক ৯৮ শতাংশ।
৪ ও ৫ নং আলোচ্যসূচিতে সিনেট সদস্যদের আপত্তির পর ৬ নং আলোচ্যসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশেদা আখতার ২০২১-২২ অর্থ বছরের জন্য ২৭৮.০২ কোটি টাকার সংশোধিত বাজেট ও ২০২২-২৩ অর্থ বছরের ২৭৯.১৩ কোটি টাকার মূল বাজেট উপস্থাপন করেন। পরে সিনেট সদস্যরা সংশোধিত বাজেটটি অনুমোদন করে।
বাজেটে গবেষণা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪.৪ কোটি টাকা যা মোট বাজেটের ১.৫৮ শতাংশ। গতবারের তুলনায় এবার ৪০ লক্ষ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২০২১-২২ এর সংশোধিত বাজেটে এটি ছিলো ৪.০০ কোটি টাকা।
এবারের বাজেটে সর্বোচ্চ ৯৭ কোটি ৮৬ লাখ ৪১ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে শিক্ষক বেতন ও বিভাগ খরচ খাতে, যা মোট বাজেটের ৩৫ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে সাধারণ কার্যক্রম ও আনুষঙ্গিক ব্যয় বাবদ ৩২ কোটি ৩৮ লাখ ৩ হাজার টাকা, যা মোট বাজেটের ১১ দশমিক ৬০ শতাংশ।
মোট বাজেটের ৩২ কোটি ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা ব্যয় নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে আছে প্রশাসনিক খরচ, যা মোট বাজেটের ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
এ ছাড়া পেনশন বাবদ ৩০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, আবাসিক হলগুলোতে ২৬ কোটি ৫৮ লাখ ১৯ হাজার টাকা, পরীক্ষা খরচ বাবদ ১৯ কোটি ৬৮ লাখ ৮৫ হাজার টাকা, পূর্ত বিভাগে আট কোটি ২৬ লাখ ২৮ হাজার টাকা। ছাত্রবৃত্তি ও ফেলোশিপ বাবদ তিন কোটি ৭৫ লাখ টাকা, শিক্ষা সরঞ্জাম, বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম ও রাসায়নিক দ্রব্য বাবদ দুই কোটি ৪১ লাখ টাকা এবং বিবিধ ব্যয় বাবদ পাঁচ কোটি ১৬ লাখ ১৩ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।
তবে এদিকে সমাবর্তনের জন্য মূল বাজেটে ১৫ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে ৬ষ্ঠ সমাবর্তন অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষ অনাবর্তক মঞ্জুরীর ব্যয় বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়নি।
এ বিষয়ে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক রাশেদা আখতার বলেন, আগে থেকে সমাবর্তন না হওয়ায় এই খাতে কোন বরাদ্দ ইউজিসি দেয়নি। তবে তারা বলেছে, সমাবর্তন হলে ইউজিসি বরাদ্দ দেবে।
এদিকে চিকিৎসাখাতে কম বরাদ্দে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘ দীর্ঘদিন ধরেই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল করার দাবি জানিয়ে আসছি । কিন্তু, কী কারণে এটা নজরে আসে না তা আমার বোধগম্য হয় না । হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প হচ্ছে, কিন্তু মেডিকেল সেন্টারের কোনো উন্নয়ন হচ্ছে না।’
জানা গেছে, বর্তমানে জাবির প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থী, ৭২০ জন শিক্ষক, ৩৫৫ জন কর্মকর্তা ও ১৩৮১ জন কর্মচারীর জন্য নামমাত্র একটি মেডিকেল সেন্টার রয়েছে। মেডিকেল সেন্টারটিতে বর্তমানে নয়জন চিকিৎসক, চারজন টেকনিক্যাল কর্মকর্তা, তিনজন কর্মকর্তা, ১৫ জন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী এবং ১০ জন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছে।