জানুয়ারি ১৭, ২০২৩, ০৮:১৫ পিএম
নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে প্রণীত সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান ‘অনুসন্ধানী পাঠ’ বইয়ের একটি অংশে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এডুকেশনাল সাইট লেখা থেকে নিয়ে হুবহু অনুবাদ করে ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় তার দায় স্বীকার করেছেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল এবং অধ্যাপক হাসিনা খান।
মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে বইটির রচনা ও সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত থাকা এই দুই অধ্যাপক আংশিক নকলের অভিযোগ সত্য বলে স্বীকার করে নেন।

যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেছেন, ‘সারা দেশে ২০২৩ সালে চালু হওয়া নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তক ছাপা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ১৫ জানুয়ারি একটি দৈনিকে মতামত কলামে সপ্তম শ্রেণির বিজ্ঞান ‘অনুসন্ধানী পাঠ’ বইটির ব্যাপারে একটি অভিযোগ আমাদের নজরে এসেছে।
একই পাঠ্যপুস্তক রচনার সঙ্গে অনেকে জড়িত থাকেন, যাদের শ্রম ও নিষ্ঠার ফলাফল হিসেবে বইটি প্রকাশিত হয়। বিশেষত, জাতীয় পাঠ্যপুস্তক রচনার ক্ষেত্রে এসব লেখকের কাছ থেকেই একধরনের দায়িত্বশীলতা আশা করা হয়। সেখানে কোনো একজন লেখকের লেখা নিয়ে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তা আমাদের টিমের জন্য হতাশার এবং মন খারাপের কারণ হয়। ওই অধ্যায়ের আলোচিত অংশটুকু লেখার দায়িত্বে আমরা দুজন না থাকলেও সম্পাদক হিসেবে এর দায় আমাদের ওপরও বর্তায়, সেটি আমরা স্বীকার করে নিচ্ছি। অবশ্যই পরবর্তী সংস্করণে বইটির প্রয়োজনীয় পরিমার্জন করা হবে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এ বছর বইটির পরীক্ষামূলক সংস্করণ চালু হয়েছে এবং সামনের শিক্ষাবর্ষ থেকে এতে যথেষ্ট পরিমার্জন ও সম্পাদনার সুযোগ আছে। কাজেই উল্লিখিত অভিযোগের বাইরেও যেকোনো যৌক্তিক মতামতকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হবে এবং সে অনুযায়ী পাঠ্যবইয়ের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন বা পরিমার্জন করা হবে।’
উল্লেখ্য, বইটি রচনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ড. হাসিনা খান, ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান খান, ড. মুশতাক ইবনে আয়ূব, রনি বসাক। সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল।
সম্প্রতি সপ্তম শ্রেণির "বিজ্ঞান অনুসন্ধানী পাঠ" বইয়ের তৃতীয় পৃষ্ঠার একটি অংশ হুবহু নকলের অভিযোগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ওই অংশটি ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক এডুকেশনাল সাইট থেকে নিয়ে হুবহু অনুবাদ করে ব্যবহার করা হয়েছে বলে একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
এর আগে বছরের প্রথমদিনে উৎসবমুখর পরিবেশে ৪ কোটি ৩৩ লাখ ৫৩ হাজার ২০১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার বই বিতরণ করেছে সরকার। কিন্তু নতুন বইয়ের ভিতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তথ্যগত ও বানানের ভুল চোখে পড়ার মতো।