মে ১, ২০২৩, ০২:০৩ পিএম
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে অবমাননা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বিকৃতির অভিযোগে ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ধরনের একাডেমিক কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারবেন না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ।
রবিবার (৩০ এপ্রিল) সিন্ডিকেটের এক নিয়মিত সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সভা শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অধ্যাপক ইমতিয়াজ রচিত ‘হিস্টোরাইজিং ১৯৭১ জেনোসাইড: স্টেট ভার্সেস পারসন’ গ্রন্থে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগের বিষয় উদ্ঘাটনের জন্য গঠিত কমিটির সুপারিশ সিন্ডিকেট সভায় উত্থাপন করা হয়।
সভা মনে করে, তাঁর গ্রন্থে ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, বঙ্গবন্ধু এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে পরিবেশিত কতিপয় তথ্য অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও ইতিহাসের বিকৃতি। সভায় উল্লিখিত গ্রন্থে অসত্য তথ্য পরিবেশন ও ইতিহাস বিকৃতির তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করা হয়।
গ্রন্থটির লেখক ইমতিয়াজ আহমেদ এবং প্রকাশক ইউপিএলকে গ্রন্থটি অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য সভা থেকে আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধুকে অবমাননাকারী এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির সঙ্গে জড়িত ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।
ইমতিয়াজ আহমেদ ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ধরনের একাডেমিক কাজে সম্পৃক্ত থাকতে পারবেন না বলে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৯ মার্চ একটি অনলাইন গণমাধ্যমে প্রকাশিত কলামে সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ইমতিয়াজ আহমেদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে সমালোচনা শুরু হয়। গত ২ এপ্রিল ইমতিয়াজ আহমেদকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অপসারণ এবং একটি উচ্চক্ষমতার তদন্ত কমিটি গঠন করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এই প্রতিবাদ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।
এরপর ৩ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টির পরিচালক ফকরুল আলমকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেন উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান।
ইমতিয়াজ আহমেদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ৬ এপ্রিল উপাচার্যকে স্মারকলিপি দেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।
৭ এপ্রিল এক বিবৃতিতে অভিযোগ তদন্ত করে অধ্যাপক ইমতিয়াজের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি নিজামুল হক ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক জিনাত হুদা। এই প্রেক্ষাপটে ১১ এপ্রিল ইমতিয়াজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক পদ থেকে এবং ১৩ এপ্রিল অফিস অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালকের পদ থেকে সরিয়ে দেন উপাচার্য।
সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক পদ থেকে অব্যাহতি, অফিস অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতি এবং একাডেমিক কাজে সম্পৃক্ত না থাকার শাস্তির প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চেয়ে দ্যা রিপোর্ট ডট লাইভ থেকে আজ দুপুরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে ইমতিয়াজ আহমেদ কল কেটে দিয়েছেন। পরবর্তীতে মুঠোফোনে এক বার্তার মাধ্যমে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই মুহুর্তে তিনি কোনো কথা বলতে ইচ্ছুক নন।
একই সভায় মুচলেকা দেয়ার শর্তে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক এ এস এম আমানুল্লাহর ক্ষমাপ্রার্থনা মঞ্জুর করেন।
এই সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সিন্ডিকেট সভা মনে করে, এ এস এম আমানুল্লাহর ফেসবুক পোস্ট পাঠ্যপুস্তক, সরকারের শিক্ষানীতি ও ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করার একটি অপপ্রয়াস। তিনি ইতিমধ্যে তাঁর কৃতকর্মের জন্য দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড ও আচরণ করবেন না—এই মর্মে লিখিত মুচলেকা দেওয়ার শর্তে তাঁর ক্ষমাপ্রার্থনার আবেদন সভায় মঞ্জুর করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মুহাম্মদ সামাদ ও সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) এ এস এম মাকসুদ কামাল, শিক্ষাসচিব সোলেমান খান প্রমুখ এতে উপস্থিত ছিলেন। গত ৬ এপ্রিল আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ থেকে অবসরোত্তর ছুটিতে (পিআরএল) গেছেন অধ্যাপক ইমতিয়াজ।