ভর্তি আবেদন ফি নেবে না ২০ বিশ্ববিদ্যালয়

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২১, ০৫:৫০ পিএম

ভর্তি আবেদন ফি নেবে না ২০ বিশ্ববিদ্যালয়

চলতি ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে  জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ ২০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য গুচ্ছ পদ্ধতিতে দুই ধাপে পরীক্ষা নেয়া হবে। তবে প্রাথমিক আবেদনের জন্য কোন ফি নেয়া হবে না। গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপাচার্যদের সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। 

বৈঠকে উপস্থিত থাকা বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. ছাদেকুল আরেফিন দ্য রিপোর্টকে জানান, প্রথমবার আবেদন করতে ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের কোনো টাকা লাগবে না।  যাচাই-বাছাই করে নির্ধারিত সংখ্যক প্রার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে। পরে যোগ্য প্রার্থীরা ৫০০ টাকা ফি দিয়ে ফের আবেদন করে ভর্তি পরীক্ষা দিতে পারবে।

তিনি জানান, ভর্তি পরীক্ষায় ভুল উত্তরের জন্য নম্বর কাটা যাবে। প্রথমে আবেদন করা কত শতাংশ প্রার্থীকে ভর্তি পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হবে এবং ভুল উত্তরের জন্য কত নম্বর কাটা যাবে এগুলো পরে ঠিক করা হবে। তবে ভুল উত্তরের নম্বর কাটার বিষয়টি প্রচলিত নিয়মেই হবে।  

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্র থাকবে। ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা তাদের সুবিধামতো কেন্দ্র পছন্দ করবে।

এ ছাড়া  সভায় বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত সপ্তাহে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার মূল্যায়নের ফল প্রকাশের পর এখন উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

গত ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত এক সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, ১০০ নম্বরের ভর্তি পরীক্ষা হবে বহুনির্বাচনী প্রশ্নে (এমসিকিউ)। উচ্চমাধ্যমিকের পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা (বাণিজ্য) বিভাগের জন্য আলাদা তিনটি পরীক্ষা হবে। বিভাগ পরিবর্তনের জন্য আগের মতো আলাদা পরীক্ষা হবে না। অর্থাৎ ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থী একটি পরীক্ষা দিয়েই নিজ বিভাগের পাশাপাশি অন্য বিভাগের বিষয়েও ভর্তি হতে পারবে। 

ওই সভায়  ২০১৯ ও ২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর মধ্যে মানবিক বিভাগের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় মোট জিপিএ-৬ থাকতে হবে। বাণিজ্য বিভাগের জন্য থাকতে হবে মোট জিপিএ-৬ দশমিক ৫ ও বিজ্ঞানে মোট জিপিএ-৭। এসএসসি ও এইচএসসি—কোনো পরীক্ষায় জিপিএ-৩-এর নিচে থাকলে আবেদন করা যাবে না।

মানবিক বিভাগের পরীক্ষা হবে বাংলা, ইংরেজি এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে। এর মধ্যে বাংলায় ৪০, ইংরেজিতে ৩৫ এবং আইসিটিতে ২৫ নম্বরের পরীক্ষা হবে। ব্যবসায় শিক্ষায় (বাণিজ্য) পরীক্ষা হবে হিসাববিজ্ঞান (২৫ নম্বর), ব্যবসায় গঠন ও ব্যবস্থাপনা (২৫ নম্বর), ভাষা (বাংলায় ১৩ ও ইংরেজিতে ১২ নম্বর) ও আইসিটি (২৫ নম্বর) বিষয়ে। বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের ভাষা (বাংলায় ১০ ও ইংরেজিতে ১০ নম্বর), রসায়ন (২০ নম্বর), পদার্থ (২০ নম্বর) এবং আইসিটি, গণিত ও জীববিজ্ঞান বিষয়ের মধ্যে যেকোনো দুটি বিষয়ে (প্রতি বিষয়ের নম্বর ২০) পরীক্ষা দিতে হবে।

ওই সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল, পরীক্ষায় কেউ পাস বা ফেল করবেন না। প্রত্যেকেই পরীক্ষার ভিত্তিতে একটি স্কোর পাবেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের শর্তানুযায়ী ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করবে এবং ওই ফলের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করবে।

শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীদের কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি নেবে, সেটি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ঠিক করবে।

এর আগে গত ১ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও উপাচার্যদের এক সভায় ১৯টি সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ও এই গুচ্ছে আসার সিদ্ধান্ত নেয়। অপর ১৯টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

 

Link copied!