আসছে ঈদ উল আযহার আগে শতভাগ উৎসব ভাতাসহ মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের লক্ষ্যে ১১ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি (বিটিএ)। এসব দাবি বাস্তবায়ন না হলে সারাদেশে আন্দোলনের হুশিয়ারি দিয়েছেন সমিতির্ নেতারা।
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিটিএ নেতারা এসব দাবি করেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিটিএ সভাপতি অধ্যক্ষ মো. বজলুর রহমান মিয়া।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “দেশের সিংহভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিদের দ্বারা। আমাদের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা, ১ হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া এবং ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়। একই কাজ করে সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষকদের সঙ্গে আমাদের পাহাড়সম বৈষম্য।
সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বেতনে বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রথা না থাকা এবং প্রধান শিক্ষকদের বেতন সরকারি স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের একধাপ নিচে প্রদান করায় শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ রয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরে যাবার পর অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়। তাছাড়া আমাদের বেতন থেকে অমানবিকভাবে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তন করা হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শেখ কাওছার আহমেদ বলেন, জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (ইউনেস্কো) ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা’র (আইএলও) অনুমোদিত ১৪৬টি সুপারিশ সম্বলিত শিক্ষকদের মর্যাদা বিষয়ক সনদে বাংলাদেশ সরকারও স্বাক্ষর করেছেন। সেখানে শিক্ষকদের সকল ধরনের সুবিধা নিশ্চিত করতে শিক্ষাখাতে জাতীয় বাজেটের ২০ শতাংশ অথবা জিডিপির ৬ শতাংশ বরাদ্দের কথা উল্লেখ আছে। আগামী বাজেটে সেটি বাস্তবায়ন করতে হবে।
তার সঙ্গে মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণ, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা, বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা, পূর্ণাঙ্গ পেনশন প্রথা চালুকরণ এবং পেনশন প্রথা চালু না হওয়া পর্যন্ত অবসর গ্রহণের ৬ মাসের মধ্যে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের পাওনা প্রদান ও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন থেকে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ কর্তন বন্ধ করার দাবি জানান।
বিটিএ নেতারা জানান, আগামী ঈদের আগে তাদের দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে ঈদের পর থেকে সারাদেশে একযোগে শিক্ষক-কর্মচারীরা আন্দোলন শুরু করবেন। শুরুতে তারা ঢাকায় মহাসমাবেশ ডেকে সেখান কর্মসূচি সারাদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার হুশিয়ারিও দেন বিটিএ নেতারা।