ডিসেম্বর ৭, ২০২১, ০৬:৩১ পিএম
কুম্ভীলকবৃত্তি বা লেখাচুরি একটি বড় অপরাধ। কুম্ভীলকবৃত্তি (plagiarism) হল অন্যের লেখা, গুবেষণালব্ধ তথ্য ইত্যাদি নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া। যারা এই চুরিকে জীবনধারণের উপায় হিসেবে গ্রহণ করেন তাদেরকে পেশাদার কুম্ভীলক বা লেখাচোর বলা যেতে পারে। নানা জনের কথা, লেখা, সুর, উদ্ভাবন-আবিষ্কার এগুলো একেক জনের সম্পদ। এই সম্পদকে বলা হয় ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি বা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি। বুদ্ধিবৃত্তিক এসব সম্পত্তির মালিক থাকেন। স্বত্বাধিকারী থাকেন। মালিকের অনুমতি ছাড়া কিংবা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তি নেওয়া এক ধরনের চুরি। এই চুরির প্রক্রিয়াকেই বলা হয় প্লেজারিজম বা চৌর্যবৃত্তি বা কুম্ভীলকবৃত্তি।
মাঝেমধ্যেই গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অসদুপায় অবলম্বনের ঘটনা তথা ‘চৌর্যবৃত্তি’ নিয়ে খবর বেরোয়। এমনকি প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও বেশ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এই চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গবেষণাকর্ম বা লেখা চুরির ঘটনায় শুধু গবেষককে দায়ী করলে চলবে না। এই গর্হিত অপরাধের ঘটনায় গবেষণা পর্যালোচনা কমিটি, সম্পাদক ও তত্ত্বাবধায়কও সমানভাবে দোষী।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণাকাজে যুক্ত আছেন এমন কয়েকজন দ্য রিপোর্ট ডট লাইভকে জানিয়েছেন, যে কোনো লেখা হুট করে প্রকাশ করা যাবে না। লেখা প্রকাশের আগে কয়েকটি ধাপ পেরিয়ে আসতে হবে। যথাযথ পর্যালোচনা কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করতে হবে এবং গবেষককে অবশ্যই সেমিনার বা মৌখিক পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। এ সমস্ত প্রক্রিয়ায় সফল হতে পারলে তবেই তার লেখা গ্রহণযোগ্য হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সাবেক সদস্য তানভীর হাসান সৈকত এ ব্যাপারে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, চৌর্যবৃত্তির সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তির আওতায় আনা দরকার।
পরিতাপের বিষয় হলো, গবেষণার সম্পাদক, তত্ত্বাবধায়করা সব সময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন। তাদের উপযুক্ত শাস্তির জন্য কোনো আইন নেই। যেমন চলতি বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষকের নামে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ ওঠে। কিন্তু তাদের সম্পাদক, সুপারভাইজার কারা ছিলেন সে ব্যাপারে কোন আলোচনাই ওঠেনি!
ফলে গবেষণাকারীই শুধু এককভাবে অভিযুক্ত হন।
এ প্রসঙ্গে ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ বলেন, “গবেষক পুরো কাজটি করেন ঠিকই। তবে সম্পাদক, তত্ত্বাবধায়ক ও পর্যালোচনা কমিটি সেই কাজের অংশ। তাই অন্যরা এই দায় এড়াতে পারেন না।”
শিক্ষাবিদ ও সমাজবিশ্লেষক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেছেন, “পৃথিবীর সব দেশেই গবেষণাকাজকে উৎসাহিত করা হয়। কিন্তু আমাদের দেশে এটি যেন আরোপিত একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষক এবং অন্যান্যদের মধ্যে আমি আত্ম-মূল্যায়ন, দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের প্রতি উদাসীন মানসিকতা দেখতে পাই। অথচ এই মহৎ গুণাবলী ছাড়া কেউ কুম্ভীলকবৃত্তির মতো দুর্নীতির উর্ধ্বে উঠতে পারবে না।” যোগ করেন তিনি।