কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতিতে দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটির এক বছর পূর্ণ হতে চলেছে আজ বুধবার (১৭মার্চ)। ২০২০ সালের এই দিন থেকে দেশে সব স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রয়েছে। সরকারের সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, চলতি মাসের ২৯ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
গত বছরের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। সংক্রমণ ধরা পড়ার ১০ দিন পর প্রথম মৃত্যু হয় করোনায়। তার আগের দিন থেকেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কয়েক দফায় ছুটি বাড়ানো হয়।
আসছে ৩০ মার্চ থেকে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ঘোষণা থাকলেও সম্প্রতি সংক্রমণ বেড়ে গেছে।গত দুদিনে ২৬ জন করে মারা গেছেন করোনায়। প্রতিদিন সংক্রমণের হারও অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে গেছে হাজারের ঘরে। করোভিইরাসের এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকও একই সুরে কথা বলেছেন। গত সোমবার (১৫ মার্চ) তিনি গণমাধ্যমকে জানান, দেশে করোনার প্রকোপ বাড়ছে। একারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার সিদ্ধান্ত রিভিউ হতে পারে। করোনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও তিনি জানান।
টানা এক বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় লেখাপড়ার চরম ক্ষতি হয়েছে শিক্ষার্থীদের। সংক্রমণ পরিস্থিতিতে গত বছরের প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে।
গত বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষাও হয়নি। পরীক্ষা না নিয়েই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ফল গত জানুয়ারিতে ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে বার্ষিক পরীক্ষা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের পরে শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হয়েছে।
করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকলেও ‘অনলাইন শিক্ষা’ কার্যক্রম চালু রেখেছে সরকার। স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চলমান আছে। কওমী মাদ্রাসাগুলো সীমিত আকারে খুলে দেওয়া হয়েছে।