দেশে করোনা সংক্রমণের কারণে প্রায় দেড় মাস পিছিয়ে আগামী শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে বাংলা একাডেমির অমর একুশের বইমেলা। মেলার মেয়াদ বরাবরের মতো এক মাসই থাকবে। তবে এর মধ্যে করোনার সংক্রমণ বাড়লে একুশে বইমেলা নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।
মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। আগামী ১৮ মার্চ বইমেলা উদ্বোধনের আয়োজনকে সামনে রেখে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

এতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার ফেব্রুয়ারিতে মেলা করা যায়নি। স্বাস্থ্যবিধি মেনে মার্চে মেলা করা হচ্ছে। সময় পিছিয়ে গেলেও মেলার অনুষ্ঠান, পুরস্কারসহ অন্য সবকিছু আগের মতোই থাকবে। তবে জীবনের মূল্য সব থেকে বেশি। তাই পরিস্থিতি যদি মেলা চালিয়ে যাওয়ার মতো না থাকে, তবে অপ্রিয় হলেও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যবিধি এবং নিরাপত্তার ব্যাপারে একাডেমির পক্ষ থেকে সম্ভব সব রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যারা মেলায় আসবেন তাদের কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।
এর আগে, সকালে বইমেলা প্রাঙ্গন পরিদর্শন করেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) কৃষ্ণপদ রায়। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, বইমেলায় এবার প্রধানত তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। পোশাকধারী পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া, সিসিটিভি, আর্চওয়ে থাকবে, গোয়েন্দা সংস্থা ও ডিবির টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।’ এছাড়া মোবাইল ও ফুট পেট্রোল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৮ মার্চ বেলা ৩টায় গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি বইমেলার উদ্বোধন করবেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা ‘আমার দেখা নায়াচীন’ বইটির ইংরেজি অনুবাদের ‘নিউ চায়না ১৯৫১’ বইটির মোড়ক উন্মোচন করবেন।
এবারে মেলার মূল থিম ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’। মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি মেলা উৎসর্গ করা হয়েছে।

বরাবরের মতোই বেলা সাড়ে তিনটা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত এবং শুক্র ও শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত মেলা খেলা থাকবে।