কবি বন্দে আলী মিঞা বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য কবি, ঔপন্যাসিক, শিশু-সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও চিত্রকর। তিনি প্রকৃতির কবি, গণমানুষের কবি। অসংখ্য কবিতা, ছড়া, প্রবন্ধ, উপন্যাস লিখে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে গেছেন তিনি। দেশের মা-মাটি-মানুষের প্রতি দরদ ফুটে উঠেছে তার সৃষ্টিকর্মে। গ্রাম নিয়ে তার অমর কবিতা ‘আমাদের গ্রাম’ পড়লে পাঠককে অবশ্যই ফিরে যেতে হবে শৈশবে, যেখানে তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা। আজ এই কবির ৪২ তম মৃত্যুবার্ষিকী।
কবি বন্দে আলী মিঞা ১৯০৬ সালের ১৭ জানুয়ারি পাবনা জেলার রাধানগর গ্রামে এক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মুন্সী উমেদ আলী ছিলেন পাবনা জজকোর্টের একজন নিম্ন পদের কর্মচারী।
তিনি পাবনার মজুমদার একাডেমী থেকে ১৯২৩ সালে ম্যাট্রিকুলেশন পাস করে কলকাতা আর্ট একাডেমীতে ভর্তি হন এবং ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ হন। ১৯২৫ সালে ‘ইসলাম দর্শন’ পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৩০ থেকে ১৯৪৬ পর্যন্ত কলকাতা কর্পোরেশন স্কুলে শিক্ষকতা করেন। দেশ বিভাগের পর তিনি কলকাতা জীবনে রবীন্দ্র-নজরুলের সান্নিধ্য লাভ করেন। তখন তার প্রায় ২০০ খানা গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। সে সময় বিভিন্ন গ্রামোফোন কোম্পানীতে তার রচিত পালাগান ও নাটিকা রের্কড আকারে কলকাতার বাজারে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করে। ১৯৬৪-র পর প্রথমে ঢাকা বেতারে ও পরে রাজশাহী বেতারে চাকরি করেন। তিনি তার কবিতায় পল্লী প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনায় নৈপুন্যের পরিচয় প্রদান করেছেন। প্রকৃতির রূপ বর্ণনায় তিনি ছিলেন সিদ্ধহস্ত। তার রচিত শিশুতোষ গ্রন্থ আজও অমর হয়ে আছে।
ময়নামতির চর ,অনুরাগ ,অনুরাগ ,পদ্মানদীর চর ,মধুমতীর চর ,ধরিত্রী ,অরণ্য, গোধূলী, ঝড়ের সংকেত, নীড়ভ্রষ্ট , জীবনের দিনগুলো, বসন্ত জাগ্রত দ্বারে ,শেষ লগ্ন ,অরণ্য গোধূলি , প্রভৃতি তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা।
শিশু সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য তিনি ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার এবং ১৯৬৫ সালে প্রেসিডেন্ট পুরস্কার, ১৯৭৮ সালে রাজশাহীর উত্তরা সাহিত্য মজলিস পদক লাভ করেন। তিনি মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হন। ১৯৬৭ সালে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক প্রাইড অফ পারফরম্যান্স পুরস্কার লাভ করেন সাহিত্যে উল্লেখযোগ্য অবদান এর জন্য।
১৯৭৯ সালের ২৭ জুন রাজশাহীতে মাটি ও মানুষের এ কবির মৃত্যু হয়।