পদ্মা নদীর মাঝি’র স্রষ্টা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

মে ১৯, ২০২১, ০৫:২৪ পিএম

পদ্মা নদীর মাঝি’র স্রষ্টা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন আজ ১৯ মে। ১৯০৮ সালের এই দিনে ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যের দুমকা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকৃত নাম প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়।

১৯২৬ সালে মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলা স্কুল থেকে প্রবেশিকা ও ১৯২৮ সালে বাঁকুড়া ওয়েলসিয় মিশন কলেজ থেকে আইএসসি পাশ করেন। পরে কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে গণিত বিষয়ে অনার্সে ভর্তি হলেও পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর  পৃথিবী জুড়ে মানবিক মূল্যবোধের চরম সংকটময় মুহূর্তে বাংলা কথা-সাহিত্যে যে কয়েকজন লেখকের হাতে সাহিত্যজগতে নতুন এক বৈপ্লবিক ধারা সূচিত হয় মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম। তার রচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল মধ্যবিত্ত সমাজের কৃত্রিমতা, শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, নিয়তিবাদ ইত্যাদি।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ফ্রয়েডীয় মনঃসমীক্ষণ ও মার্কসীয় শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্ব দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন যা তার  রচনায় ফুটে উঠেছে।

মনুষ্যত্ব ও মানবতাবাদের জয়গানই মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাহিত্যের মুল উপজীব্য। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের ভাঙ্গা গড়ার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবকে তিনি তার সাহিত্যে চিত্রায়িত করেছেন। সমাজের শাসক ও পুঁজিপতিদের হাতে দরিদ্র সমাজের শোষণবঞ্চনার স্বরূপ তুলে ধরেছেন সাহিত্যের নানান চরিত্রের আড়ালে।

জীবনের অতি ক্ষুদ্র পরিসরে তিনি রচনা করেন চল্লিশটি উপন্যাস ও তিনশত ছোটোগল্প। তার রচিত পুতুলনাচের ইতিকথা, দিবারাত্রির কাব্য, পদ্মা নদীর মাঝি ইত্যাদি উপন্যাস ও অতসীমামী, প্রাগৈতিহাসিক, ছোটবকুলপুরেরে যাত্রী ইত্যাদি গল্পসংকলন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ বলে বিবেচিত হয়। ইংরেজি ছাড়াও তার রচনাসমূহ বহু বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দের ৩ ডিসেম্বর মাত্র ৪৮ বছর বয়সে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শক্তিশালী এই কথাসাহিত্যিকের জীবনাবসান ঘটে।

Link copied!