বিশ্ব মানবতার ফেরিওয়ালা মাদার তেরেসা

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

আগস্ট ২৬, ২০২১, ০৩:০১ এএম

বিশ্ব মানবতার ফেরিওয়ালা মাদার তেরেসা

নীল পাড়ের সাদা সুতি শাড়ি, রুক্ষ চামড়া ও মায়াবী এক চেহারা- শুধু এতটুকু বললে যে মানুষটির ছবি চট করে মাথায় চলে আসে, তার নাম অ্যাগনিস গন্জা বোঝাঝিউ। যিনি সারাবিশ্বে মাদার টেরিজা বা তেরেসা নামে পটরিচিত।মহীয়সী এই নারী পৃথিবীতে মানবতার এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ।

মানবতার ফেরিওয়ালা মাদার তেরেসা নানা সময় ছুটেছেন পৃথিবীর নানা প্রান্তে, কোলে তুলে নিয়েছেন পীড়ন-নিপীড়নে থাকা হাজারো শিশুদের, সেবা করেছেন অনেক অবহেলিতদের।

শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ মহিয়সী নারী, দুস্থ, দরিদ্র, অসহায়, অবহেলিত মানুষের ত্রাণকর্ত্রীর আজ ১১১ তম জন্মদিন। ১৯১০ সালের এই দিনে  বর্তমান মেসিডোনিয়ার রাজধানী স্কোপিয়েতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।। তবে তিনি সন্ন্যাসজীবন গ্রহণের তারিখ ২৭ আগস্টকেই জন্মদিন মানতেন। মাত্র ১২ বছর বয়সেই ধর্মীয় সন্ন্যাস জীবন যাপনের সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন। ১৮ বছর বয়সে গৃহত্যাগ করেন।

যখন তেরেসার বয়স ৩৬ তখন ধর্মীয় নির্জনবাসে দার্জিলিং যাওয়ার সময় তার মাঝে একটা এক গভীর উপলব্ধি আসে। এই অভিজ্ঞতাকে পরবর্তীতে তিনি ‘দ্য কল উইদিন দ্য কল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।

১৯৫০ সালের ঘটনা। মাত্র ১৩ জন সদস্য নিয়ে  কলকাতায় তিনি মিশনারিজ অফ চ্যারিটি নামে একটি সেবাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। তার চ্যারিটির অধীনে এতিমখানা ও এইডস আক্রান্তদের জন্য পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালিত হয়। বিশ্বব্যাপী শরণার্থী, অন্ধ, বয়স্ক, মাদকাসক্ত, দরিদ্র, বসতিহীন ও বন্যা, দুর্ভিক্ষ বা মহামারীতে আক্রান্ত মানুষের সেবায় তার চ্যারিটি অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।

১৯৮৩ সালে পোপ জন পল ২ এর সাথে দেখা করার উদ্দেশ্যে রোম সফরের সময় মাদার তেরেসার প্রথম হার্ট অ্যাটাক হয়। ১৯৯১ সালে মেক্সিকোতে থাকার সময় নিউমোনিয়া হওয়ায় হৃদরোগের আরও অবনতি ঘটে। এই পরিস্থিতিতে ১৯৯৭ সালের ১৩ই মার্চ মিশনারিস অফ চ্যারিটির প্রধানের পদ থেকে সরে দাড়ান।১৯৯৬ সালের আগস্টে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হন, তাঁর বাম হৃৎপিণ্ডের নিলয়, রক্ত পরিবহনে অক্ষম হয়ে পড়ে। ৫ই সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।

মাদার তেরেসার উচ্চতা ছিল মাত্র ৪ ফুট ১১ ইঞ্চি। তবে মানবসেবার উচ্চতায় হিমালয়কে ছাড়িয়ে আকাশ ছুয়েছেন তিনি। জীবনে ত্যাগ স্বীকার করলে সেই কাজের স্বীকৃতি নিশ্চয়ই মিলে। তারই প্রমাণ মাদার তেরেসা।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তার অবদান বাঙালি কখনো ভুলবে না। একাত্তরের ডিসেম্বরে মাদার তেরেসা খুলনা ও ঢাকার কয়েকটি ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এসব ক্যাম্পে পাকসেনারা একটানা বাংলাদেশি নারীদের ওপর অত্যাচার করে আসছিল। এসব দেখে মুষড়ে পড়েন তিনি।

১৯৭২ সালে তত্কালীন পুরান ঢাকার ইসলামপুর রোডে মাদার তেরেসার যুদ্ধশিশু ক্যাম্পে ২১টি যুদ্ধশিশু। ছবি : সংগৃহীত

ঢাকায় ফিরে খোলেন ‘মিশনারিজ অফ চ্যারিটিজ’-এর একটি শাখা। তখন বেশিরভাগ যুদ্ধশিশুকে ঘৃণার চোখে দেখা হতো, ফেলে দেওয়া হতো ডাস্টবিনে। মাদার তেরেসা ওই সময় পরম মমতায় যুদ্ধ শিশুদের কোলে তুলে নেন, পাঠিয়ে দেন কলকাতা, ফ্রান্স ও সুইডেনে।

মাদার তেরেসাকে অমর করে রাখার সবচেয়ে বড় প্রয়াসটি জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার। বিশ্বের ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে যারা দুই মুঠো অন্ন পৌঁছে দেন তাদের পক্ষে এই স্বীকৃতি হলো সেরেস মেডেল। এই মেডেলের এক পিঠে রয়েছে ভিক্ষাপাত্র হাতে অপুষ্টিতে ভোগা একটি শিশুর মূর্তি আর অপর পিঠে রয়েছে মাদার তেরেসার ছবি। ১৯৮৫ সালে জাতিসংঘের সে সময়কার সেক্রেটারি জেনারেল পেরেজ দ্য কুয়েলার মাদার তেরেসা সম্পর্কে এক সভায় বলেছিলেন, পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী মানবী হচ্ছেন মাদার তেরেসা।

Link copied!