বাংলাদেশের বিশিষ্ট দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক প্রবন্ধকার সরদার ফজলুল করিমের জন্মদিন আজ ১ মে। বাংলাদেশের খ্যাতিমান এই দার্শনিক ১৯২৫ সালের এই দিনে বরিশাল জেলার আটিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
ফজলুল করিমের শৈশবকাল কেটেছে গ্রামে। ম্যাট্রিকুলেশন শেষ করে তিনি ১৯৪০ সালে ঢাকায় আসেন। পরে ১৯৪৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি দর্শন শাস্ত্রে স্নাতক ও পরের বছর একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শন শাস্ত্রের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ফজলুল করিম। ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৮ পর্যন্ত দুই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থাকাকালীন বামপন্থী সামাজিক-রাজনৈতিক আন্দোলনে যুক্ত থাকার কারণে পাকিস্তান সরকার কর্তৃক নিগৃহীত হন। রাজবন্দি হিসেবে তিনি দীর্ঘ ১১ বছর বিভিন্ন মেয়াদে কারাবরণ করেন। জেলে থাকা অবস্থাতেই ১৯৫৪ সনে তিনি পাকিস্তান সংবিধান সভার সদস্য হিসেবে কাজ করেন। ১৯৬৩ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাংলা একাডেমির সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যক্ষ হিসেবে কাজ করেন।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সেপ্টেম্বর মাসে তিনি পাকিস্তানী সেনাদের হাতে বন্দী হন। দেশ স্বাধীনের পর অধ্যাপক ফজলুল করিম ফের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেন। ১৯৭২ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন তিনি। ২০১৪ সালের ১৫ জুন রাজধানীর শমরিতা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান৷
সরদার ফজলুল করিমের বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রয়েছে। এর মধ্যে ‘চল্লিশের দশকে ঢাকা’, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পূর্ববঙ্গীয় সমাজ: অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাকের আলাপচারিতা’, ‘রুমির আম্মা’, ‘নানা কথা’, ‘নানান কথার পরের কথা’, ‘গল্পের গল্প’ উল্লেখযোগ্য। অনুবাদ সাহিত্যেও সরদার ফজলুল করিমের সুখ্যাতি রয়েছে। ‘প্লেটোর রিপাবলিক’, ‘প্লেটোর সংলাপ’, ‘অ্যারিস্টোটলের পলিটিক্স’ তার উল্লেখযোগ্য অনুবাদ সাহিত্যকর্ম। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে বিশেষ অবদানের জন্য সরদার ফজলুল করিম বাংলা একাডেমি ও ২০০০ সালে ‘স্বাধীনতা দিবস পুরষ্কারে ভূষিত হন।