অষ্টাদশ শতাব্দীর ইংরেজি সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি আলেকজান্ডার পোপের আজ মৃত্যুবার্ষিকী। ১৭৪৪ সালের এই দিনে যুক্তরাজ্যের টুইকেনহামে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
‘অল্প বিদ্যা ভয়ঙ্করী। বিদ্যার অমৃত হয় আকণ্ঠ পান করো, নয়তো করো না।’ বিখ্যাত এই উক্তির জনক আলেকজান্ডার পোপ ১৬৮৮ সালের ২১ মে যুক্তরাজ্যে জন্মগ্রহণ করেন। পোপের বাবা ছিলেন লিনেনের পাইকারি ব্যবসায়ী। ওই সময়ে ক্যাথলিকদের ওপর আরোপিত টেস্ট অ্যাক্টের কারণে পোপ ভালো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন করতে পারেননি। পড়াশোনা করেছেন ধর্মযাজক ও টিউটরদের কাছে। পোপের কবি হওয়ার ইচ্ছা ছিল ছোটবেলা থেকেই। আদর্শ মনে করতেন মহাকবি হোমার, ভার্জিল, মিল্টনকে।
১৭০৯ সালের মে মাসে তার লেখা প্যাস্টোরালস প্রকাশিত হলে আলেকজান্ডার পোপ রাতারাতি খ্যাতি অর্জন করেন। ১৭১১ সালের দিকে জন গে, জোনাথন সুইফট, থমাস পার্নেল ও জন আরবাটনটকে সাথে নিয়ে গড়ে তোলেন স্ক্রিবিলারুস ক্লাব। ব্যঙ্গাত্মক সাহিত্যে এই ক্লাবের সদস্যদের অবদান ছিল।
ব্যঙ্গাত্মক ও প্রহসনমূলক লেখার জন্য জনপ্রিয় এই কবিই প্রথম মহাকাব্য ইরিয়াডের ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর সাধনা করে অনুবাদ করেন হোমারের ইলিয়ড। পরে আরো চার বছর সময় নিয়ে তিনি অনুবাদ করেন ওডিসির। এ ছাড়া তিনি শেকসপিয়ার, হোরেসকে নিয়েও কাজ করেছেন। বিভিন্ন সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে তিনি তাঁর প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করেছেন অত্যন্ত চাতুরতার সঙ্গে।
আলেকজান্ডার পোপের বিখ্যাত ব্যঙ্গ মহাকাব্য ‘দ্য রেপ অব দ্য লক’। ‘অ্যান এসে অন ম্যান’ তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থগুলোর একটি। এ ছাড়া তিনি রচনা করেছেন, ‘প্যাস্টোরালস’, ‘উইন্ডসোর ফরেস্ট’, ‘প্রোলোগ টু দ্য স্যাটায়ার্স’।
কবি আলেকজান্ডার পোপ সারা জীবন ভুগেছেন হাঁপানির কষ্টে। পোপের জীবন খুব বর্ণিল বা ঘটনাবহুলও ছিল না। অথচ এই পোপই বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কবিদের একজন হয়ে আছেন।