আজীবন বিপ্লবী কবি নবারুণ ভট্টাচার্য

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ২৩, ২০২১, ১১:৪৬ এএম

আজীবন বিপ্লবী কবি নবারুণ ভট্টাচার্য

‘যে পিতা সন্তানের লাশ সনাক্ত করতে ভয় পায় আমি তাকে ঘৃণা করি- যে ভাই এখনও নির্লজ্জ স্বাভাবিক হয়ে আছে আমি তাকে ঘৃণা করি- যে শিক্ষক বুদ্ধিজীবী কবি ও কেরানী প্রকাশ্য পথে এই হত্যার প্রতিশোধ চায় না আমি তাকে ঘৃণা করি’। জ্বালাময়ী এই পংক্তির  লেখক  নবারুণ ভট্টাচার্য, বিপ্লবী এই কবির ৭৩ তম জন্মদিন আজ।

বাংলা সাহিত্যের এই প্রথাবিরোধী কবি ও কথাসাহিত্যিক ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরে ১৯৪৮ সালের ২৩ জুন জন্মগ্রহণ করেন।বিখ্যাত নাট্যকার-অভিনেতা বিজন ভট্টাচার্য ও সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবীর একমাত্র সন্তান নবারুন ভট্টাচার্য। তিনি পড়াশোনা করেছেন কলকতার বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুলে এবং আশুতোষ কলেজে প্রথমে ভূতত্ত্ব নিয়ে ও পরে সিটি কলেজে ইংরেজী নিয়ে |

কবি, গল্পকার এবং ঔপন্যাসিক, এই তিনটি পরিচয়ের মিশেলে নবারুণ গড়ে তুলছিলেন স্বকীয় একটি ধারা। নাটক করেছেন কলকাতার মঞ্চে। বামপন্থী রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী নবারুণ দীর্ঘদিন কাজ করেছেন ‘সোভিয়েত দেশ’ পত্রিকায়।

১৯৭৩-এ বিদেশি সংস্থায় যোগদান করে ১৯৯১ পর্যন্ত সেখানে চাকরি করেন। কিছুদিন বিষ্ণু দে’র ‘সাহিত্যপত্র’ সম্পাদনা করেন এবং ২০০৩ থেকে ‘ভাষাবন্ধন’ নামক পত্রিকাটি পরিচালনা করেন। এর আগে দীর্ঘদিন ‘নবান্ন’ নাট্যগোষ্ঠীর পরিচালনা করেছেন।

১৯৬৮ সালে ‘পরিচয়’ পত্রিকায় প্রকাশিত তার প্রথম ছোটগল্প ‘ভাসান’। প্রথম কবিতার বই ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’ এবং প্রথম উপন্যাস ‘হারবার্ট’। প্রথম উপন্যাস ‘‘হারবার্ট’ প্রকাশিত হওয়ার পরে ভীষণ আলোড়ন তুলতে পেরেছিলেন নবারুণ। সাহিত্য অঙ্গণ থেকে শুরু করে সমাজের প্রতিষ্ঠিত অঙ্গনেও। এই উপন্যাসের জন্য এই বছরই সাহিত্য অকাদেমি সম্মানও পান তিনি। তাছাড়া পেয়েছেন নরসিংহ দাস, বঙ্কিম পুরস্কারও। পরবর্তী সময়ে এই উপন্যাস নিয়ে একই নামে সিনেমাও বানিয়েছেন পরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায়। এছাড়াও ‘লুব্ধক, কাঙাল মালসাট, অটো ও ভোগী, হালাল ঝান্ডা ও অন্যান্য, মহাজানের আয়না, ফ্যাতাড়ুর বোম্বাচক, মসোলিয়ম, রাতের সার্কাস, খেলনানগর, এবং আনাড়ির নারীজ্ঞান ইত্যাদি তার উল্লেখযোগ্য রচনা।

নবারুণ ভট্টাচার্যের কবিতায় উঠে এসেছে পুঁজিবাদী রাষ্ট্রকাঠামোর সমালোচনা। তিনি লিখেছেন রাষ্ট্রের আসল সত্তা মানে, সশস্ত্র সৈন্যবাহিনী, পুলিশ বাহিনী, কারাগার এবং বলপূর্বক অন্যের ইচ্ছেকে আয়ত্তে আনার অন্যান্য উপায়। ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’ কবিতার একশো উনিশ লাইনে এঁকেছেন রাষ্ট্রের স্তম্ভ ও তাদের ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তবিক চিত্র।

‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না’র মতো কবিতার পঙক্তি কিংবা ‘হার্টবার্ট’, ‘কাঙাল মালসাট’রে মতো তির্যক উপন্যাস গড়ে তুলেছে নবারুণের প্রতিষ্ঠান বিরোধী ভাবমূর্তি। ব্যক্তি জীবনেও তিনি ছিলেন অনাড়ম্বর।

তিনি ২০১৪ সালের ১ আগস্ট আন্ত্রিক ক্যান্সারের চিকিৎসাধীন অবস্থায় কলকাতায় ঠাকুরপুকুর ক্যান্সার হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।

 

 

Link copied!