বলিউড মানেই কাপুর পরিবার। অভিনয়, প্রযোজনা ও পরিচালনা— সবকিছুতেই রয়েছে কাপুর পরিবারের দাপট। দীর্ঘ সময় ধরে ভারতীয় চলচ্চিত্রে দাপটের সাথে বিচরণ করছে এই পরিবার। সেই পৃথ্বিরাজ কাপুর থেকে শুরু করে হালের কারিনা-রনবীর। রুপালি পর্দায় বাজিমাত তাদের। তবে বলিউড ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির চকোলেট বয় থেকে 'অ্যাংরি ইয়ং ম্যান' একজনই হতে পেরেছিলেন এই পরিবারের। তিনি হলেন ঋষি কাপুর।

বলিউডের কিংবদন্তী অভিনেতা কাপুর পরিবারের প্রয়াত এই সদস্য ছিলেন অভিনেতা-নির্মাতা রাজ কাপুর ও কৃষ্ণা কাপুর দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান। তিনি অভিনেতা পৃথ্বীরাজ কাপুরের নাতি। জন্মেছিলেন ১৯৫২ সালের ৪ সেপ্টেম্বরে, মুম্বাইয়ে।
ছোট থেকেই বাবা-কাকাদের অভিনয় দেখে বড় হয়েছিলেন ঋষি। তাঁদের দেখানো পথেই কেরিয়ারের শুরুটা হয়েছিল শিশুশিল্পী ঋষির। ১৯৫৫ সালের ঘটনা সেটি। বয়স তখন সবেমাত্র ৩ বছর। রাজকাপুর-নার্গিস অভিনীত 'শ্রী ৪২০' ছবিতে শিশুশিল্পীর ভূমিকায় ঋষি কাপুরের প্রথম আবির্ভাব হয় স্ক্রিনে। ছবির ‘পেয়ার হুয়া ইকরার হুয়া’গানে প্রথম দেখা যায় তাঁকে।

এরপর ১৯৭০ সালে বাবা রাজ কাপুরের পরিচালনায় ছোট রাজুর ভূমিকায় ‘মেরা নাম জোকার’ ছবির মধ্য দিয়ে শিশুশিল্পী হিসেবে দেখা যায় ঋষিকে। দর্শক ভালোবাসায় ভরিয়ে দিয়েছিল কাপুর পরিবারের এই ছোট্ট অতিথিকে।
১৯৭৩ সালে কিশোর প্রেমের গল্প নিয়ে তৈরি 'ববি' সিনেমায় মূল চরিত্রে অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে বলিউডে আসেন তিনি। ঋষি-ডিম্পল কাপাডিয়া অভিনীত চলচ্চিত্রটি রাজকাপুরপুত্রকে বলিউডে শক্ত অবস্থান তৈরিতে সহায়তা করে।

শুধু হিন্দি চলচ্চিত্রে নয়, পুরো ভারতের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিজে উঠতি বয়সের প্রেমের অবতারণা এটিই ছিলো প্রথম। এই ছবিতে প্রথমবার বিকিনি পরে গোটা বলিউড জগতকে নাড়িয়ে দেন মাত্র ১৫ বছর বয়সের অভিনেত্রী ডিম্পল কাপাডিয়া। সুপার-ডুপার হিট হওয়া ওই ছবিটি বক্স অফিসে প্রথম দিকে স্থান করে নিয়েছিলো। ১৯৭৩ সালের সবচেয়ে বেশি আয় করা চলচ্চিত্রও এটি। তাছাড়া হিন্দি চলচ্চিত্র জগতের অন্যতম সেরা প্রণয়ধর্মী এবং ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রগুলোর তালিকায় এই ববিকে সবসময়ই রাখা হয়।

অভিনেতা ঋষি কাপুর আর নিতু সিংয়ের প্রেমের গল্পটি ছিল স্বপ্নের মতো। তাদের প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল 'জাহরিলা ইনসান' এর সেটে। ওই সময় এক নারীর সাথে প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন ঋষি কাপুর। নিতু সিং বিষয়টি জানতেন। এক পর্যায়ে গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে ঝামেলা হলে ঋষি কাপুর নিতুর প্রতি আকর্ষণ অনুভব করেন। পরে তারা পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন এবং কাপুর পরিবারের নিয়ম অনুযায়ি রুপালি পর্দাকে বিদায় জানান নিতু সিং।

সত্তর ও আশির যুগে ‘লায়লা মজনু’, ‘কার্জ’, ‘প্রেমরোগ’, ‘নাগিনা’, ‘চাঁদনি’, ‘হিনা’, ‘বোল রাধে বোল’, ‘অমর আকবর অ্যান্থনি’, ‘কাভি কাভি’র মতো অজস্র দর্শকনন্দিত সিনেমা তিনি উপহার দিয়েছেন। নতুন শতাব্দীতেও থেমে যায়নি তাঁর বর্ণাঢ্য অভিনয় জীবন।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে বহু সিনেমায় রোমান্টিক নায়ক হিসেবে অভিনয় করেছেন তিনি। পরে বহু সিনেমায় সফলভাবে চরিত্রাভিনেতা হিসেবে অভিনয় করেছেন তিনি। ফানা’, ‘নমস্তে লন্ডন’, ‘লাভ আজ কাল’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন। বক্স অফিসে তার শেষ ছবি ছিল ‘দ্য বডি’।

ঋষি কাপুর ভালবাসতেন ইন্টেরিয়ার ডিজাইন। কিন্তু ২০১৮ সালে হঠাৎই তাঁর ধরা পড়ে ব্লাড ক্যানসার। বিদেশে নিয়ে যাওয়া হয় চিকিৎসার জন্য। কিন্তু তাঁকে সারিয়ে তোলা যায়নি। ২০২০ সালের ৩০ এপ্রিল রূপালী পর্দার দারুন এই অভিনেতা বিদায় নেন পৃথিবীর দৃশ্যপট থেকেও।