নাট্যকার অভিনেতা মমতাজউদদীন আহমদ

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

জুন ২, ২০২১, ০২:৫০ পিএম

নাট্যকার অভিনেতা মমতাজউদদীন আহমদ

বাংলাদেশের প্রখ্যাত নাট্যকর ও অভিনেতা অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২ জুন। ২০১৯ সালের এই দিনে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ, নির্দেশক অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদ ১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার হাবিবপুর থানায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর তার পরিবার তদানিন্তন পূর্ববঙ্গে (বর্তমানে  বাংলাদেশ) চলে আসে।

মমতাজউদদীন মালদহ আইহো জুনিয়র স্কুলে চতুর্থ শ্রেণী পর্যস্ত লেখাপড়া করে ১৯৫১ সালে ভোলাহাট রামেশ্বর পাইলট মডেল ইনস্টিটিউশন থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে রাজশাহী কলেজ থেকে উচচ মাধ্যমিক এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষঅ ও সাহিত্যে সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।

এক অঙ্কের নাটক লেখায় বিশেষ পারদর্শিতার স্বাক্ষর রাখা মমতাজউদদীন আহমদ ৩২ বছরের বেশি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কলেজে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ইউরোপীয় নাট্যকলায় শিক্ষাদান করেন।  ১৯৬৪ সালে তিনি চট্টগ্রাম কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা শুরু করেন। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও পরে  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভগের খন্ডকালীন অধ্যাপক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন।  

এছাড়া তিনি ১৯৭৬-৭৮ সাল জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়নে একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করেন। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীতে গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালকও ছিলেন মমতাজউদদীন আহমদ।

মমতাজউদদীন শিক্ষক ও লেখক হিসেবে পরিচিতি পেলেও থিয়েটারের মাধ্যমে তার কর্মজীবনকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তিনি সংস্কৃতি অঙ্গনের একজন কর্মী হিসেবে সক্রিয়ভাবে বাংলা ভাষা আন্দোলন, বাংলাদেশের স্বাদীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার আন্দোলনেও তিনি সক্রিয় ছিলেন।

নাটকে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ১৯৭৬ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরষ্বার ও ১৯৯৭ সালে একুশে পদক লাভ করেন।

Link copied!