বিদ্রোহী গায়ক বব মার্লে

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

মার্চ ৬, ২০২১, ০৯:০৯ এএম

বিদ্রোহী গায়ক বব মার্লে

‘আমি ঝড়ের কাছে রেখে গেলাম আমার ঠিকানা’। হ্যাঁ, তিনি ঝড়ের কাছেই নিজের ঠিকানা রেখে গেছেন। একমাথা অবিন্যস্ত চুল, দাড়িপূর্ণ মুখ, হাতে গিটার। একজন মানুষ গান গাইছেন দাঁড়িয়ে। কখনো ওপরের শূণ্যতায় হাত ছুঁড়ে দিয়ে উড়িয়ে দিচ্ছেন সুরের প্রজাপতি। তিনি বব মার্লে। গানের পৃথিবীতে ঝড় হয়ে আসা এই হারকিউলিসের আজ ৭৬তম জন্মদিন।

https://www.youtube.com/watch?v=JGD8VCmpvE0

বব মার্লে ১৯৪৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ জ্যামাইকার নাইন মাইল নামক স্থানে জন্মগ্রহন করেন। তার পিতা নর্ভাল মার্লে ছিলেন একজন শ্বেতাঙ্গ জ্যামাইকান এবং মা সেডেলা বুকার ছিলেন আফ্রো-জ্যামাইকান। ববের পারিবারিক নাম রবার্ট নেসটা মার্লে।

স্কুলে পড়ার সময় সহপাঠীদের নিয়ে তৈরি করেন গানের দল ‘দ্য ওয়েইলার্স ব্যান্ড’। প্রথমে নিজ দেশে এবং পরবর্তীতে যা বিশ্ব বিখ্যাত হয়। গানের মধ্য দিয়েই তিনি তৃতীয় বিশ্বের আইকন হয়ে উঠেছিলেন।

৭০ এর দশকে যিনি শ্রোতা-দর্শকদের মাতিয়ে রেখেছিলেন তার নান্দনিক সুরের মূর্ছনায়। একাধারে তিনি ছিলেন গীতিকার, সুরকার এবং শিল্পী। তিনি গেয়েছেন এবং তৈরি করেছেন রেগি, স্কা, রক স্টেডিসহ নানা ধরনের মৌলিক এবং মিশ্র সঙ্গীত।

জীবনঘনিষ্ঠ গান গাইতেন বলে বব মার্লে পেয়েছেন আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা

ষাট এবং সত্তরের দশকের উত্তাল এক সময়ে বব মার্লে তার গান দিয়ে মানুষকে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের মিছিলে সংযুক্ত করেছিলেন। তাঁর গাওয়া ‘বাফেলো সোলজার’, ‘নো ওম্যান নো ক্রাই’, গেট আপ স্ট্যান্ড আপ ফর ইওর রাইট’ পৃথিবীর দেশে দেশে অধিকার বঞ্চিত মানুষের মনে বিদ্রোহের আগুন জ্বেলে দিয়েছিলো। সেই সময় থেকে আজ পরযন্ত বব মার্লে পৃথিবী জুড়ে তরুণদের কাছে বিদ্রহের প্রতীক হয়ে আছেন।

বব মার্লে জ্যামাইকান সঙ্গীতকে বিশ্ববাসীর কাছে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন, করে তুলেছেন জনপ্রিয়। মার্লের গানে এমন কিছু ছিল, যা শ্রোতাদেরকে তাদের দুঃখ-কষ্ট ভুলিয়ে দিয়ে সুরের তালে নেচে উঠতে বাধ্য করতো।

বব মার্লে ছিলেন আজীবন সংগ্রামী এক শিল্পী। জীবনঘনিষ্ঠ গান গাইতেন বলে তিনি পেয়েছেন আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তা। মানবতার কথা, সামাজিক ন্যায় আর সুবিচারের কথা বলেছেন আজীবন। আজও তিনি সমান জনপ্রিয় তার আপন মহিমায়।

তিনি প্রায় ৫০০ গান লিখে সুর করেছেন! মাত্র ৩৬ বছর বয়সে পৃথিবীতে আলোড়ন ফেলে দেয়া এই কিংবদন্তির মৃত্যু হয় ১৯৮১ সালের ১১ মে।

Link copied!