বিপ্লবের অগ্নিকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

মে ৫, ২০২৩, ০৬:৩৯ পিএম

বিপ্লবের অগ্নিকন্যা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার

দেশের জন্য সর্বস্ব ত্যাগের মহিমায় আজো যে নারীরা মানুষের মনে অমর হয়ে আছেন, তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত মুখগুলোর একটি হল প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার।

প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার ১৯১১ সালের ৫ মে মঙ্গলবার চট্টগ্রামের পটিয়ার ধলঘাট গ্রামে জন্ম নেন। জগবন্ধু ওয়াদ্দেদার ও প্রতিভা দেবীর ছয় সন্তানের মধ্যে প্রীতিলতা ছিলেন দ্বিতীয়। অন্তর্মুখী স্বভাবের প্রীতিলতা ১৯১৮ সালে ডা. খাস্তগীর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ভর্তি হন।

১৯২৩ এর ১৩ই ডিসেম্বর চট্টগ্রামের টাইগার পাস নামক জায়গায় মাস্টারদা সূর্য সেনের বিপ্লবী দলের সদস্যরা সরকারি কর্মচারীদের বেতনের জন্য নিয়ে যাওয়া ১৭,০০০ টাকা ছিনতাই করে নেয়। এর কিছুদিনের মধ্যেই বিপ্লবীদের গোপন আস্তানায় পুলিশের অতর্কিত হামলায় গ্রেপ্তার হন সূর্যসেন ও অম্বিকা চক্রবর্তী। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা হয় রেলওয়ে ডাকাতির মামলা। এই ঘটনার পরের বছরেই বেঙ্গল অর্ডিন্যান্স নামক এক জরুরি আইনে বিনা কারণে বিপ্লবী সদস্যদের আটক করা শুরু হয়। বাজেয়াপ্ত করা হয় বিপ্লবীদের প্রকাশনাসমূহ।

এরকম সময়ে একদিন প্রীতিলতাদের বাড়িতে আসেন তার এক দাদা। পূর্ণেন্দু দস্তিদার, বিপ্লবী দলের একজন কর্মী। তিনি সরকার কর্তৃক বাজেয়াপ্ত কিছু বই প্রীতিলতার কাছে গোপনে রেখে গেলে কৌতূহলবশত প্রীতিলতা বইগুলো খুলে দেখে এবং একে একে পড়ে ফেলে ‘বাঘা যতীন’, ‘দেশের কথা’, ‘ক্ষুদিরাম’ আর ‘কানাইলাল’। সেই বয়সেই বইগুলো প্রীতিলতার চিন্তাজগতে যথেষ্ট প্রভাব ফেলে। তখন তিনি সবে দশম শ্রেণির ছাত্রী।

বইগুলো পড়ে ভীষণভাবে আলোড়িত হন প্রীতিলতা। মূলত এগুলোই তাকে বিপ্লবের আদর্শে অনুপ্রাণিত করে।

লেটারমার্ক সহ ম্যাট্রিক পাশ করে ঢাকায় ইডেন কলেজে ভর্তি হওয়ার পর প্রীতিলতা  বিপ্লবী দলে যোগ দেন। পরিচয় হয় বিপ্লবী সূর্যসেনের সাথে।

১৯৩২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর পাহাড়তলীর ইউরোপিয়ান ক্লাবে হামলার পরিকল্পনা নিলেন সূর্যসেন। হামলার দায়িত্বভার তিনি দিতে চেয়েছিলেন কল্পনা দত্তকে। কিন্তু ঘটনার এক সপ্তাহ আগে কল্পনা দত্ত গ্রেপ্তার হলে দায়িত্ব চাপে প্রীতিলতার কাঁধে।

সেই হামলায় একাধিক সদস্য জখম হলেন। অভিযানের শেষ দিকে হঠাৎ একজন গুর্খা অফিসারের ছোড়া গুলিতে প্রীতিলতা মাটিয়ে লুটিয়ে পড়েন। নির্দেশ অনুযায়ী ধরা না দিতে মুখে পুরে দেন পটাশিয়াম সায়ানাইড।

প্রীতিকে সায়ানাইড ক্যাপসুল দেবার জন্য সবসময়ই অনুশোচনা করেছেন সূর্যসেন। কল্পনা দত্তকে পরে তিনি বলেছিলেন, “প্রীতি মৃত্যুকে বেছে নিয়েছিল দেশবাসীর কাছে শুধু এটাই প্রমাণ করার জন্য যে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও দেশের জন্য যুদ্ধ করতে পারে এবং জীবন দিতে পারে। কিন্তু আমি নিশ্চিত যে, বেঁচে ফিরে আসলেই বরং সে আরো বেশি কিছু করতে পারত।”

এই উপমহাদেশে সকল শ্রেণির মানুষ শ্রদ্ধাভরে আজও স্মরণ করে অদম্য, দেশপ্রেমিক প্রীতিলতাকে।

Link copied!