সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২২, ১০:৪৫ এএম
এই পথ যদি না শেষ হয়, আমি দূর হতে তোমারেই দেখেছি, এই মেঘলা দিনে একলা ঘরে, অলির কথা শুনে বকুল হাসে, ও নদী রে.... এই গানগুলো শোনেননি বা গুনগুন করে গাননি এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।
গ্রামোফোন পেরিয়ে ইউটিউব জামানায় এখনও একইভাবে প্রাসঙ্গিক তিনি। বাঙালির সুখ দুঃখ, মান, অভিমানের শ্রেষ্ঠ সঙ্গী আজও। আর যদি বাংলা আধুনিক সঙ্গীতের সোনালি দিনের কথা বলা হয়, তাহলে নির্দ্বিধায় তাঁর নাম উঠে আসবে শীর্ষে।
এটা হেমন্ত কাল নয়, তবু আজ সুরের জগৎ জুড়ে যেন হেমন্তের আবহ। আজ কিংবদন্তি শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবস।
ভারতের বারাণসীতে ১৯২০ সালের ২০ জুন জন্ম নেন হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। যাদবপুর প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু গানের টানে শেষ করতে পারেননি। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নিতে শুরু করেন হেমন্ত। কিন্তু ওস্তাদ ফৈয়াজ খাঁ’র চলে যাওয়ায় তা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। ১৯৩৭ সালে প্রথম গান রেকর্ড হয় তাঁর। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। একে একে বাংলা ও হিন্দিতে প্রচুর গান রেকর্ড হয় এবং জনপ্রিয়তার তুঙ্গে ওঠেন এই শিল্পী।
হেমন্ত মুখোপাধ্যায় কয়েকটি বাংলা চলচ্চিত্রেও সংগীত পরিচালনা। এর ফলে তিনি সঙ্গীত পরিচালক হিসেবেও খ্যাতি লাভ করেন।
তাঁর চলে যাওয়ার তিন দশক পরেও তাঁর সৃষ্টির জনপ্রিয়তা এতটুকু কমেনি।
বেসিক রেকর্ড না রুপালি পর্দা? হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ছিলেন দুই দিকেই স্বাচ্ছন্দ্য। তাই তাঁর সুরের মূর্ছনায় বাঙালি হৃদয়ের নানা অনুভূতি কল্লোলিত হয় বাংলার পথে-প্রান্তরে। যাঁর সুরে রোমান্টিকতায় দোলে আসমুদ্রহিমাচল।