ক্যালেন্ডারের পাতায় আজ ১২ ফেব্রুয়ারি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৬ তম রাষ্ট্রপতি আব্রাহাম লিংকনের ২১২ তম জন্মদিন। আইনজীবি হয়ে রাজনীতির সাথে জরিয়েছিলেন আব্রাহাম লিংকন। দিয়েছিলেন গণতন্ত্রের নিখুঁত সংজ্ঞা। ‘গণতন্ত্র হলো জনগণের সরকার, জগনের দ্বারা সরকার, জনগণের জন্য সরকার’। মাত্র দুই মিনিটে ২৭২ শব্দের বিখ্যাত ভাষণটি গেটিসবার্গ স্পিচ। এটি পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ।
কেন্টাকিতে ১৮০৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন লিংকন, বেড়ে উঠেন গরীব আমেরিকান ফ্রন্টিয়ারে। সেখানেই স্বশিক্ষিত হয়ে তিনি ইলিনয়ের আইনজীবী হন। তিনি রিপাবলিকান পার্টির প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন।হুইগ পার্টির নেতা হিসেবে তিনি আট বছর রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারনের কাজ করেন এবং পুনরায় তার আইনি কাজে ফিরে যাবার পূর্বে দুই বছর কংগ্রেসে কাজ করেন।ডেমক্রেটিকরা যখন প্রেইরি ল্যান্ডে দাসপ্রথার চালু করে লিংকন রাগান্বিত হয়ে পুনরায় ১৮৫৪ সালে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। নিউ রিপাবলিকান পার্টির নেতা হয়ে উঠেন। তিনি ক্ষমতায় ছিলেন ১৮৬১ হতে ১৮৬৫ সাল পর্যন্ত। তিনি দাস প্রথার বিরুদ্ধে ছিলেন এবং তার ক্ষমতার সময়ে ১৮৬৩ সালের ১লা জানুয়ারী তিনি আইনত দাসপ্রথা বিলুপ্ত করেন। কিন্তু দক্ষিণ আমেরিকানরা তা মেনে নিতে পারে নি। তারা বিভক্ত হয়ে আলাদা রাষ্ট্র গঠন করে এবং আমেরিকাকে বিভক্ত করে। এই অভ্যন্তরীণ বিরোধ গৃহযুদ্ধের সূচনা করে। ১-৩ জুলাই তারিখে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসেলভানিয়ার গেটিসবার্গে এই গৃহযুদ্ধে প্রায় আট হাজার মানুষ নিহত হয়। ১৯ নভেম্বর ১৮৬৩ সালে এক স্মরণসভায় আব্রাহাম একটি সংক্ষিপ্ত ও দুনিয়া কাঁপানো ভাষণ দেন। যেটি গেটিসবার্গ স্পিচ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।
এই দাস প্রথাকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের সময় তিনি উত্তরাঞ্চলীয় ইউনিয়ন বাহিনীর নেতৃত্ব দেন, এবং দক্ষিণের কনফেডারেট জোটকে পরাজিত করেন। জন উইল্ক্স বুথ নামক আত্নীয়ের হাতে তিনি ১৮৬৫ সালের ১৫ এপ্রিল গুলিবিদ্ধ ও নিহত হন।