জুন ৮, ২০২১, ০১:১৫ পিএম
বাংলাদেশী চলচ্চিত্রে বহু বছর ধরে ব্যবহার হয়ে আসা অ্যানালগ সিস্টেমকে পরিবর্তন করে ডিজিটাল সিস্টেমকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য সর্বাধিক ভূমিকা পালন করেছে যে প্রতিষ্ঠানটি তার নাম জাজ মাল্টিমিডিয়া। ২০১১ সাল থেকে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই আলোচনা এবং সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে। বর্তমান অবস্থা নিয়ে জাজ মাল্টিমিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) আলিমুল্লাহ খোকনের সাথে কথা বলেন দ্য রিপোর্ট । প্রশ্নোত্তর আকারে কথোপকথনটি তুলে ধরা হলো :
দ্য রিপোর্ট : জাজ মাল্টিমিডিয়ার নতুন ছবি আমরা কবে দেখতে পাবো ?
আলিমুল্লাহ খোকন : এটা নির্ভর করে বর্তমান অবস্থা আর সরকারের উপর নির্ভর করে কবে হল খুলবে আর কবে মুক্তি দেব। যেহেতু এটা ২০ লক্ষ টাকার ছবি না এটা তাই ইচ্ছা করলেই ১০ তা হলে মুক্তি দিয়ে টাকা তোলা সম্ভব না। যখন দেশের অবস্থা ঠিক হবে তখন আমরা মুক্তি দেব।
দ্য রিপোর্ট : ওটিটি নিয়ে আপনাদের কি কোনো চিন্তা ভাবনা আছে নাকি ?
আলিমুল্লাহ খোকন : আমরা যেহেতু চলচ্চিত্র বানিয়েছি হলে মুক্তি দেয়ার জন্য। সিনেমা হল যখন স্বাভাবিক হবে তখন সিনেমা হলে চালানোর পরে আমরা চিন্তা করবো। এক সাথে ২ প্লাটফর্মে আমরা চালাবো না। যেহেতু বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য আমরা চলচ্চিত্রে কাজ করছি। আমরা এখন থেকে কোনো টাকা পয়সা নিয়ে পরিবার চালায় নাই। এদিক থেকে যদি চিন্তা করি আমরা আগে সিনেমা হল বাঁচাবো তার ২ সপ্তাহ বা ৪ সপ্তাহ পর আমরা ওটিটি নিয়ে চিন্তা করবো।
দ্য রিপোর্ট : শাপলা মিডিয়া ১০০ সিনেমা বানানোর উদ্যোগ নিয়েছে আপনারা এ ব্যাপারটি কিভাবে দেখছেন ?
আলিমুল্লাহ খোকন : দেখান যদি একদিকে বলি এটা নিঃসন্দেহে খুব ভালো একটা উদ্যোগ। কারণ আমাদের কোন পরিচালক ,শিল্পী ও কলাকৌশুলীদের কোনো কাজ নেই। যদি ২০ লাখ টাকার ১০০ ছিনেমা বানানো হয় তাহলে সবাই কাজ পাবে। কিন্তু এই ছবিগুলো সিনেমা হলে মুক্তি দেয়ার মতো ছবি না। যদি আমরা সিনেমার কথা চিন্তা করি তাহলে এটা চলচ্চিত্রের জন্য অশনি সংকেত। কারণ এগুলো ছবি দেখার পরে দর্শকরা আর সিনেমা হলে যাবে না আর কোনদিন ও তাদের সিনেমা হলে নেয়া যাবে না। আর যদি বর্তমান করোনা কালীন কথা চিন্তা করি তাহলে এফডিসি কর্মচঞ্চল মানুষের খাদ্য ,বস্ত্র জন্য ১০০ ছবি খুব ভালো ভূমিকা রাখবে ।
দ্য রিপোর্ট : জাজ মাল্টিমিডিয়ার নতুন নায়িকা কবে দেখা যাবে ?
আলিমুল্লাহ খোকন : যতক্ষণ পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হবে ততক্ষন পর্যন্ত আমি বা আমরা কেউ কিছু বলতে পারবো না। দেখেন সেখানে ইনভেস্ট করে যেখানে আপনার মুনাফা আসবে। যদি মুনাফা না থাকে সেখানে আপনি কিভাবে ইনভেস্ট করবেন।
দ্য রিপোর্ট : এফডিসিতে গত ১ মাসে মাত্র ২টি ছবির শুটিং হয়েছে এমন হবার কারন কি ?
আলিমুল্লাহ খোকন : দেখেন আমাদের দেশের সরকার বলতে আমরা যা বুঝবো আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী আর তার বাবা শেখ মুজিবর রহমান এরা নিঃসন্দেহে চলচ্চিত্র প্রেমী ছিলেন এবং তাদের অবদান অনস্বীকাৰ্য ছিল। কিন্তু তাদের অধীনে কাজ করে তারা আমি বলবো চলচ্চিত্র সম্পর্কে একবারে অনভিজ্ঞ। যদি অনভিজ্ঞ না হতো তাহলে এখানে সরকার আর প্রযোজকের মধ্যে ব্যবসা করে। প্রযোজকরা বিনিয়োগ করছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে। ফকির হলে তারা হচ্ছে। চলচ্চিত্রে কাজ করতে করতে কোন শিল্পী ফকির হয়েছে এমন কোনো নজির নাই। তারা তো বিনিয়োগ করে না যে তারা ফকির হবে। যারা ফকির হয়েছে তাদের জন্য সরকার এখন পর্যন্ত কোনো অবদান রাখে নাই।
দ্য রিপোর্ট : প্রযোজকদের জন্য অনুদান কি যথাযথ হয়েছিল?
আলিমুল্লাহ খোকন : প্রধানমন্ত্রীর অধীনে যারা কাজ করে তারা সরকারের একটা অংশ তারা এ পর্যন্ত প্রযোজকদের জন্য কি করছে। তারা করছে শিল্পীদের জন্য আর পরিচালকদের জন্য। সরকার থেকে অনুদান দেয়া হয়েছে সেই অনুদান পরিচালক ,শিল্পী ও কলাকৌশুলীদের ২৫০০ করে দেয়া হয়েছে আর প্রযোজকদের ও ২৫০০ করে দেয়া হয়েছে। একটা শিল্পীদের আর প্রযোজকদের একভাবে কেমন করে দেয়া হয়। একটা প্রযোজকের আন্ডারে এরা সবাই কাজ করে তাহলে এক ভাবে কেমনে দেয়। এরা দিনভরা টাকা ইনকাম করেছে আর প্রযোজকরা টাকা দিতে দিতে ফকির হয়ে গেছে। তাহলে প্রযোজক,পরিচালক আর শিল্পীরা এক জিনিস হলো না। ইভেন্ট একটা দুঃখ জনক ব্যাপার হলো এটা নিয়ে কোনো প্রযোজক সমিতি কোনো প্রতিবাদ করে নাই আর কোনো সাংবাদিক সম্মেলন ও করে হয় নাই বা সরকারকে জানানোর প্রয়োজন ও হয় নাই । হয় এটা তুলে নেন না হয় টাকা বেশি দেন। প্রযোজক সমিতি এই করোনার ভিতর যারা আবেদন করেছে সবাইকে ১০ হাজার টাকা করে দিয়েছে আর কাউকে কাউকে ৫০০০ টাকা দিয়েছে এটা খুব কম। ৫০০০ টাকার সংখ্যাটা কম ১০ হাজার টাকার সংখ্যাটা বেশি। সরকার থেকে তো যাদের ছবি আটকে রয়েছে তাদের লোন দেয়া দরকার ছিল। সরকারের লোকজন যদি বুঝতো যে করোনার কারণে প্রযোজকরা কষ্টে আছে তাহলে তো ভালোই হতো। এইযে সরকার লকডাউন দিয়েছে এফডিসিতে আমার গোডাউন রয়েছে আমি লকডাউনে আমার গোডাউনে যেতে পারি নি কিন্তু আমার ঠিকই ভাড়া দিতে হচ্ছে। সরকার আমার থেকে টাকা রক্ত চুষে নিচ্ছে। আপনারা আমার ফোস করে দিয়ে আমার থেকে টাকা নিচ্ছেন। আমাকে ভিতরে ঢুকতে দিলেন না আমি কোনো কিছু ব্যবহার করতে পারলাম না তাহলে আমার থেকে কি টাকা নিলেন।
দ্য রিপোর্ট : এফডিসিতে শ্যুটিং করতে অনাগ্রহী কেন নির্মাতারা?
আলিমুল্লাহ খোকন : আমি এফডিসিকে বললাম আপনারা ফ্লোর ভাড়া অর্ধেক করে দেন এই করোনার ভিতর আমরা একটু বেঁচে যায়। তারা সেটাকে ২ গুন করে দিছে। তাহলে আপনারা প্রযোজককে কি সুবিধা দিছেন। দেখেন এফডিসিতে আর এখন সেই পরিবেশ নাই। এফডিসিতে অসংখ্য মানুষ ঢুকছে। এখানে এতগুলো সিকিরিটি রাখা হয়েছে কেনো। গেটের মধ্যে পুলিশ বসে বসে সিকারেট খাচ্ছে। আর যারা সিকিরিটি তারাও বসে বসে গল্প করছে আর টাকা নিয়ে ভিতরে লোক প্রবেশ করাচ্ছে। আপনারা এই সিস্টেম রাখেন না কেনো কোনো প্রযোজক কল দিলে লোক ঢুকতে পারবে। আর শুটিং না হওয়ার প্রধান কারণ শিফটিং সমস্যা ,হল ভাড়া বেশি মনে করেন আমি বাইরে যে কোনো একটা শুটিং হাউস ভাড়া নিলে ৫ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে যাই যা এফডিসিতে ভাড়া নিলে অনেক বেশি তার কারণে শুটিং কম হচ্ছে ।
দ্য রিপোর্ট : ওটিটি প্লাটফর্ম এখন হলের চেয়ে বেশি জনপ্রিয় এটাকে আপনারা কিভাবে দেখছেন?
আলিমুল্লাহ খোকন : ওটিটি প্লাটফর্ম যদি এভাবে চলতে থাকে যেমন আপনি দেখান অনন্য মামুনের ছবি একটা আলোড়ন সৃষ্টি করছে। একজন প্রযোজক আমাকে বললো এই ছবি নকল। এটা যদি তামিল ছবিতে চলতে পারে তাহলে আমাদের দেশে চলতে পারে না। আপনাকে একটা জিনিস দেখতে হবে এটা হলো ৮৮ ভাগ মুসলমানের দেশ। ৮৮ ভাগ যদি মুসলমানের দেশ হয়ে থাকে তাহলে মুসলমানের হিসাবে চলতে হবে। ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়লেই যে মুসলমান তা না। মুসলমানের একটা ভাব সাপ সামনে রেখে এগিয়ে যেতে হবে যেমন আজানের সময় উচ্চ স্বরে সাউন্ড বাজানো যাবে না। তাই এই জিনিস গুলো আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। তাই আমি বলবো ওটিটি প্লাটফর্ম যদি কেউ কোনো শর্ট ফিল্ম ছাড়তে চাই তাকে সেটা সেন্সর বোর্ডের মাধ্যমে ছাড়তে হবে। সেন্সর বোডে না আসলে তারা এভাবে সেগুলো করতে থাকবে। সেন্সর বোর্ডকে আরো নমনীয় হতে হবে। যাতে করে তাদের কোনো ফ্রি না লাগে। দেশ আজ ডিজিটাল তাই সব কিছু আরো বেশি ডিজিটাল করা উচিত বলে আমি মনে করি।