কে এই বনবিবি?

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

মার্চ ৬, ২০২৩, ০৫:০৬ পিএম

কে এই বনবিবি?

বর্তমানে কোক স্টুডিও বাংলার সিজন-টু একটি জনপ্রিয় গান ‘বনবিবি’। গানটি শুনে কি মনে প্রশ্ন জেগেছে কে এই বনবিবি?

চলুন জেনে নেই কে এই বনবিবি-

কল্পকাহিনি বা সত্যি যা-ই হোক না কেন, সুন্দরবনজীবীদের কাছে বিশ্বাসের আরেক নাম বনবিবি।

ইতিহাসবিদ সতীশচন্দ্র মিত্রের যশোহর খুলনার ইতিহাস-গ্রন্থের তথ্য অনুযায়ী, ১৫০০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ সুন্দরবন এলাকায় দক্ষিণরায়, বণিক ধোনাই ও মোনাই এবং গাজীর অস্তিত্বের কথা জানা যায়।

‘বনবিবি’ সুন্দরবনজীবীদের কাছে এক সুরক্ষার দেবী। পঞ্জিকামতে, বাংলা বছরের পহেলা মাঘ সুন্দরবনের ভেতরে মা বনবিবির পূজা করা হয়।

সুন্দরবনজীবীদের ধারণা, বনের বাঘ ও বাঘরূপী অপশক্তির হাত থেকে তিনি রক্ষা করবেন। এই পূজা দক্ষিণ বাংলার আবহমান লোকসংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বনবিবি ছিলেন ইব্রাহিম নামে এক আরবের কন্যা। ইব্রাহিমের স্ত্রী গুলাল বিবির প্ররোচনায় সুন্দরবনে পরিত্যক্ত হলে জন্ম হয় বনবিবির। বনবিবি হিন্দুসমাজে বনদুর্গা, বনচণ্ডী বা বনদেবী নামেও পরিচিত । অপরদিকে মুসলমান সমাজে পিরানি হিসেবে পরিচিত ছিলেন বনবিবি।

লোকমতে, বনে গাজী নামে এক আউলিয়া থাকতেন। দক্ষিণ রায় বাঘবেশী অপশক্তি। এক রাতে রায়মণি বা দক্ষিণ রায় ধনে-মনেকে স্বপ্নে দেখা দেন। তিনি দুই ভাইকে প্রচুর মধু আর সম্পদ দেওয়ার লোভ দিয়ে দুঃখেকে উৎসর্গ করতে বলেন। অন্যথায় তাদের নৌকা ডুবে যাওয়া এবং মধু না পাওয়ার ভয় দেখান।

ধনে আর মনে ভয়ে দুঃখেকে উৎসর্গ করার সিদ্ধান্ত নেন এবং তাকে পানি আনতে দিয়ে নৌকা ছেড়ে চলে যান। দুঃখে মায়ের কথামতো সেই মাকে স্মরণ করে। বনবিবি এসে দুঃখেকে বাঘরূপী দক্ষিণ রায়ের কবল থেকে উদ্ধার করেন এবং তাকে কুমিরের পিঠে ভাসিয়ে মায়ের কাছে পাঠিয়ে দেন।

এভাবেই পরবর্তী সময়ে বনবিবি সুন্দরবনজীবী মানুষের কাছে দেবীর মর্যাদা পেতে শুরু করেন।

কোক স্টুডিও বাংলার অফিসিয়াল ইউটিউব ও স্পটিফাই চ্যানেলে ৭ মিনিট ২০ সেকেন্ডের নতুন এ গানটি প্রকাশের পরপরই দর্শক হৃদয়কে স্পর্শ করে নিয়েছে।

এ গানটির কথা যৌথভাবে লিখেছেন শিবু কুমার শীল ও মেজবাউর রহমান সুমন। গানটি সুর করেছেন শিবু কুমার শীল। তার কণ্ঠের সাথেই জহুরা বাউলের কণ্ঠের জুটি গানটিকে অন্যরকম এক রূপ দিয়েছে।

Link copied!