সম্প্রতি জনপ্রিয় পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসওয়ালাকে খুন হওয়ার ঘটনায় সরগরম গোটা ভারত। গত রবিবার (২৯ মে) তরুণ এই গায়ককে একে-৪৭ থেকে ৩০ রাউন্ড গুলি চালিয়ে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়। এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসেবে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম প্রকাশ্যে আসতেই বলিউড অভিনেতা সালমানের খানের নিরাপত্তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে মুম্বাই পুলিশ। লরেন্স বিষ্ণোইয়ের টার্গেটে রয়েছেন সালমান খান।

হিন্দুস্তান টাইমসকে মুম্বাই পুলিশের এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘সালমান খানের নিরাপত্তা সার্বিকভাবে বাড়ানো হয়েছে। তার অ্যাপার্টমেন্টের চারপাশেও ২৪ ঘণ্টা পুলিশি টহল থাকবে, যাতে রাজস্থানের এই গ্যাং (লরেন্স বিষ্ণোই) কোনোরকম পদক্ষেপ গ্রহণ করতে না পারে।’

ভারতের আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লরেন্স বিষ্ণোই-ঘনিষ্ঠ গ্যাংস্টাররাই দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ভারত জুড়ে। বিভিন্ন রাজ্যের রন্ধ্রে রন্ধ্রে তাদের শিকড়। পঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসওয়ালার হত্যার পর তদন্তে সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য।
২০১৮ সালের ঘটনা। বলিউড অভিনেতা সালমন খানকেও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই। ওইসময় তিনি বলেছিল, "আমরা যা করি,জানিয়েই করি। যোধপুরেই খুন করব সালমন খানকে। এখনও তো কিছুই করিনি।" ওই সময় একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছিল, যাতে আদালতের সামনে সংবাদমাধ্যমকে সরাসরি এই বয়ান দিয়েছিল লরেন্স।

কৃষ্ণসার হরিণ শিকার ঘটনায় সালমান খানকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন লরেন্স বিষ্ণোই। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে পবিত্র বলে গণ্য করা হয় কৃষ্ণসার হরিণকে। ১৯৯৮ সালে সালমান খানের উপর যোধপুরে সিনেমার শুটিং চলাকালীন দুটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ রয়েছে। সেই সময় থেকে বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের চক্ষুশূল সালমান। এর আগে বেশ কয়েকবার সালমান খানকে শার্প শুটার দিয়ে হত্যার ছক কষেছে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই।
২০২০ সালে এক যুবককে খুনের অপরাধে উত্তরাখণ্ড থেকে গ্রেপ্তার করা হয় রাহুল নামের ২৭ বছরের শার্প শ্যুটারকে। পুলিশি জেরায় সে স্বীকার করেছিল সালমান খানকেও হত্যার ছক কষছিল তার দল। এমনকি কখন, কোথায়, কিভাবে অভিনেতাকে হত্যা করা হবে, তার জন্য রেইকি করতে মুম্বাই পর্যন্ত এসেছিল লরেন্সের সহযোগীরা।

লরেন্স বিষ্ণোই-ঘনিষ্ঠ গ্যাংস্টাররা সংখ্যায় অনেক। পঞ্জাব, দিল্লি, হরিয়ানা, রাজস্থান এবং হিমাচলপ্রদেশে ছড়িয়ে আছে ৭০০-এর উপর আততায়ী,যারা লরেন্সের হয়ে কাজ করে। পাঁচ রাজ্যে পুলিশকে নাস্তানাবুদ করছে সেই বাহিনী।
কংগ্রেস নেতা ও পাঞ্জাবি গায়ক সিধুর হত্যাকাণ্ডে যুক্ত গোল্ডি ব্রারও লরেন্সের দলেরই। সিধু মুসওয়ালা খুন হয়েছেন গত রবিবার সন্ধ্যায়। পঞ্জাবের মানসার জাওয়াহারকে গ্রামের রাস্তাতেই গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়। সেই ঘটনার দায় ইতিমধ্যেই স্বীকার করে নিয়েছে লরেন্স।