ফারুক চোখ মেলে তাকাচ্ছেন মাঝে মাঝে

দ্য রিপোর্ট ডেস্ক

এপ্রিল ২৩, ২০২১, ০৪:৫২ পিএম

ফারুক চোখ মেলে তাকাচ্ছেন মাঝে মাঝে

বাংলাদেশের বরেণ্য অভিনয়শিল্পী এবং সাংসদ আকবর পাঠান ফারুকের স্বাস্থ্য এখন উন্নতির দিকে। গত মার্চ মাস থেকে টানা দুই সপ্তাহের বেশি অচেতন অবস্থায় ছিলেন তিনি। তখন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তার মৃত্যুর গুজব রটে। কিন্তু গুজবকে মিথ্যা বলে জানান ফারুকের স্ত্রী ফারহানা পাঠান। বর্তমানে সিঙ্গাপুরে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ফারুক। ধীরগতিতে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি ঘটছে।

চিত্রনায়ক ফারুকের শারীরিক অবস্থা নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাচ্ছিলেন না তার স্ত্রী। কিন্তু ফারুকের বর্তমান অবস্থা কেমন তা জানতে আগ্রহী শুভাকাঙ্ক্ষীরা। বিষয়টি জানার পর ফারুকের স্ত্রী এক গণমাধ্যমে বলেন, ‘‌আমি চেয়েছিলাম, একেবারে ভালো কিছু খবর দিতে। এখন যদি বলতে হয়, এটুকু বলা লাগবে, আমি প্রতিদিন দুই ঘণ্টা করে ওর সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাই। এই মাসের প্রথম দিকে যে অবস্থা ছিল, তার চেয়ে এখন কিছুটা ভালো। ফারুকের শারীরিক অবস্থার উন্নতি খুব স্লোলি হচ্ছে। চিকিৎসকেরা যে আন্তরিকতা নিয়ে ফারুকের চিকিৎসা দিচ্ছেন, এটা অবিশ্বাস্য। আমি শুধু এটুকু বলব, সবাই মন থেকে ফারুকের জন্য দোয়া করবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘মার্চের শেষের দিকে যে অবস্থা তৈরি হয়েছিল, তাতে ভীষণ চিন্তায় পড়ে যাই। আল্লাহর রহমতে এখন সেই আশঙ্কা অনেকটা কেটে গেছে। প্রতিদিনই তার নড়াচড়া আস্তে আস্তে বাড়ছে। এটাকে খুব বড় উন্নতি বলা যাবে না। মাঝেমধ্যে চোখ মেলে তাকান। রক্তচাপ ও ব্রেনে যে সমস্যা ছিল, তা চিকিৎসকের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাকে কয়েকবার ডাকলে একবার সাড়া দেন। চিকিৎসক জানিয়েছেন, এভাবেই চিকিৎসা চালাতে হবে। কবে সুস্থ হবেন, নির্দিষ্ট কোনো সময় দেওয়া হয়নি।’

উল্লেখ্য, দীর্ঘ আট বছর ধরে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ফারুক। গত ৪ মার্চ নিয়মিত চেকআপের জন্য সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে তার রক্তে সংক্রমণ ও টিবি ধরা পড়ে। রক্তে ব্যাক্টেরিয়াজনিত সংক্রমণ ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ায় পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছিল তার। এরপর ২১ মার্চ থেকে সেখানেই হাসপাতালের ভর্তি ছিলেন এই অভিনেতা। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়া হয় তাকে। এর মধ্যে ৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় গুজব রটে, ফারুক মারা গেছেন। যদিও সেদিন সিঙ্গাপুর থেকে ফারুকের স্ত্রী জানিয়ে দেন তার স্বাস্থ্যের উন্নতির বিষয়টি।

প্রসঙ্গত, ১৯৪৮ সালে ১৮ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন চিত্রনায়ক ফারুক। অভিনেতা এবং রাজনীতিবিদের পাশাপাশি তিনি ব্যবসায়ী এবং প্রযোজক ছিলেন। ১৯৭১ সালে ‘জলছবি’ সিনেমার মধ্য দিয়ে ঢালিউডে অভিষেক হয়েছিল এই বহুমুখি প্রতিভার অধিকারী অভিনেতার। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন তিনি। তার উল্লেখযোগ্য ছবির তালিকায় রয়েছে ‘সারেং বৌ’, ‘লাঠিয়াল’, ‘সুজন সখী’, ‘নয়নমনি’, ‘মিয়া ভাই’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সাহেব’, ‘আলোর মিছিল’, ‘আবার তোরা মানুষ হ’, ‘দিন যায় কথা থাকে’, ‘সখী তুমি কার’, ‘কথা দিলাম’, ‘সূর্য গ্রহণ’ ইত্যাদি।

১৯৭৫ সালে ‘লাঠিয়াল’ ছবিতে অনবদ্য নৈপুণ্যের জন্য শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান ফারুক। ২০১৬ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হন গুণী এই অভিনেতা। অভিনয় থেকে অবসর নেওয়ার পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১৭ আসনে প্রথমবারের মতো সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি।

Link copied!